স্পোর্টস রিপোর্টার অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। রান-বন্যার ম্যাচে বাংলাদেশ ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে সফরকারীদের হারায় ১২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। আর এই ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে একগাদা নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির তালিকায় তামিম ইকবাল ও লিটন দাস পৌঁছে গেছেন এক নম্বরে। ওপেনিং জুটিতে ২৯২ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এর আগে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি ছিল ২২৪ রানের। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান পঞ্চম উইকেট জুটিতে এই রান সংগ্রহ করেন। এখানে তৃতীয় অবস্থানে আছে ২১ বছর পুরোনো এক উদ্বোধনী জুটি। ১৯৯৯ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই প্রথম উইকেট জুটিতে মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুত্ মিলে করেছিলেন ১৭০ রান।
বাংলাদেশের মাটিতে এক ওয়ানডেতে লিটন দাসের চেয়ে বড়ো ইনিংস খেলেছেন এর আগে কেবল দুই জন। তারা হলেন: শেন ওয়াটসন ও বিরাট কোহলি। ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৮৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ওয়াডসন। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮৩ রান করেছিলেন বিরাট কোহলি। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের আসরে এই কীর্তি গড়েছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। এখনো এটাই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
ওপেনিং জুটিতে ২৯২ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটা তৃতীয় সেরা ওপেনিং জুটি। এর আগে গেল বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবলিনে দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও শাই হোপ মিলে যোগ করেছিলেন ৩৬৫ রান। আর ২০১৮ সালে বুলাওয়েতে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই পাকিস্তান দলের দুই ওপেনার ফখর জামাব ও ইমাম উল হক ৩০৪ রানের জুটি গড়েন।
চতুর্থবারের মতো এক ম্যাচে দুই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পেলেন। এর মধ্যে দুই বারই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। একবার করে এই ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার নজির। এর আগে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচে বাংলাদেশের ছক্কার সংখ্যা ছিল ১১টি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে এই নিয়ে ৪৩তম বারের মতো এক ইনিংসে দুই ওপেনার সেঞ্চুরি পেয়েছেন। এর সর্বশেষ নজিরটা দুই মাসেরও কম সময় আগে। সেবার ভারতের ২৫৬ রান তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ভারত হেরেছিল ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন দুই ওপেনার—তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। দুই জনই তিন ম্যাচের এই সিরিজে ৩০০র ওপর রান তুলেছেন। লিটনের ৩১১ রানের জবাব তামিম দিয়েছেন মাত্র এক রানে পিছিয়ে (৩১০) থেকে। তিন ওয়ানডেতে বাঁহাতি অভিজ্ঞ ওপেনারের তিনটি ইনিংস যথাক্রমে ২৪, ১৫৮ ও ১২৮*। অন্যদিকে তিন ম্যাচে লিটন করেছেন যথাক্রমে ১২৬, ৯ ও ১৭৬। ইমরুল কায়েস অবশ্য এই দুই জনের চেয়েও এগিয়ে। ২০১৮ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩৪৯ (১১৪, ৯০ ও ১১৫) রান করেছিলেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজে এটাই কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রান। দুই নম্বরে আবারও আছে তামিম। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি ৩১২ রান (১১৬, ১৩২ ও ৬৪*) করেন। এরপর সদ্যসমাপ্ত হওয়া সিরিজে লিটনের ৩১১ এবং তামিমের ৩১০ আছে। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড বাবর আজমের দখলে। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ৩৬০ রান করেছিলেন এই পাকিস্তানি।
