জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার অঙ্গীকার

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ২২:২৫

নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

বিশেষ প্রতিনিধি

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদ্যাপিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণের আবেদন ৪৯ বছরেও এতটুকু কমেনি। ২২ মিনিটের বজ নির্ঘোষ ভাষণটি গতকাল কাকডাকা ভোর থেকে দেশের প্রতিটি অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় বেজেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাসংবলিত ঐতিহাসিক শিহরণ জাগানিয়া এ ভাষণটি শুনে দেশের মানুষ নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন দেশপ্রেমে, শপথ নিয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পরাভূত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগত্খ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমন্ডিতে অবস্থিত তার প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুলকলেজের ছাত্রছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবনপ্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণে তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা এবং সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন, সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৮তম বর্ষপূর্তি পালিত হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, লে কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা ও কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ নানা সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডের রেজিস্টারভুক্তি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।