জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত করে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার সুযোগ। এ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশে আওয়ামী লীগ ও জোট সরকার গঠন হবে। জোটের শরিকদল জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী হিসাবে পিরোজপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য পদে আমাকে আপনারা ভোট দিলে অতীতের ধারাবাহিকতায় অবহেলিত দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে নিজেকে ব্যাপৃত করার সুযোগ পাবো। পাশাপাশি মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইনের প্রতি অনুগত থাকে তা বজায় রাখতে সচেষ্ট হবো।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলা সদরে মেহেউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী বিরাট জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জাতীয় পাটি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু একাদশ সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে (ইন্দুরকানি-ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী) ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল জেপির সংসদ সদস্য প্রার্থী।
আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে একটি অনন্য ঘটনা ঘটেছে। পিরোজপুর-২ আসনে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে আমরা সাইকেল মার্কায় নির্বাচন করছি। ১৪ দল নিয়ে নির্বাচনী জোট হয়েছে। যার মধ্যে ১৩টি দলের নির্বাচনী প্রতীক হচ্ছে নৌকা আর আমাদের প্রতীক হচ্ছে বাইসাইকেল। প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের মতো আমাদেরও নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন তাহলে তার এই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা তাই করতাম; কিন্তু তিনি ভাণ্ডারিয়া-ইন্দুরকানি-কাউখালীর মানুষের প্রতি বিশ্বাস ও সম্মান প্রদর্শন করে আমাদের সাইকেল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, এই এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল এবং উন্নয়ন প্রত্যাশী। তার এই সম্মান প্রদর্শনকে কাজের দ্বারা, শৃঙ্খলার দ্বারা বজায় রাখতে হবে। আমরা এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আছি। আমি যখন এরশাদ সরকারের প্রথম মন্ত্রী হই এবং জ্বালানি, খনিজ ও বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করি তখন প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সম্মত করে রাজধানীর বাসিন্দাদের পাশাপাশি দক্ষিণ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জন্য যত্সামান্য হলেও তখন বিদ্যুতায়নের অধিকার আদায় করি। এরপর দুই বার যোগাযোগ মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে নদী-খালের দেশে রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণে সচেষ্ট হই। এখানকার উন্নয়নের ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ হলেও এই কাজে আমাদের চেষ্টা ও শ্রম আজ অনেকটা সফল। এর পিছনে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও ঐকান্তিকতা ছিল প্রবল। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ আগ্রহকে সম্মান দেখিয়ে যেতে হবে, তাকে আবারও সরকার প্রধান বানাতে হবে। তার প্রতি আল্লাহর রহমত রয়েছে, বারবার সরকার প্রধানের আসনে তিনি যে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, তা একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়ই।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বলে এসেছি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। আগামীতে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, ইন্দুরকানি এলাকার মানুষ আজ শান্তিতে আছেন, নিরাপদ আছেন। আমরা ঝগড়া-ঝাটি, কলহ-ফ্যাসাদ মুক্ত থেকে এ এলাকায় যাতে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে পানি খায় তার পরিবেশ বজায় রাখব। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইন্দুরকানি বাজারে সম্প্রতি একটি ব্রিজ নির্মাণসহ আরও ১৮টি প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে সংসদে বা সরকারে যেখানেই থাকি যে পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকব, কেন্দ্রে যেই থাকুন আমাদের বঞ্চিত করতে পারবেন না। যে ব্যক্তি যে দলই করুন না কেন উন্নয়নের ব্যাপারে সবাইকে এক থাকতে হবে। আরও মনে রাখতে হবে রাজনীতি করলে মামলা-মোকদ্দমা হয়। উন্নয়নশীল দেশে রাজনীতিবিদদের আইনি পথে এসব মোকাবিলা করেই চলতে হয়।
ইন্দুরকানি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র উদ্যোগে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মালেক, জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, ইন্দুরকানি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বর ও জাতীয় ছাত্র সমাজের উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম মীর। এ সময় মঞ্চে ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সভাপতি এডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, জেপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা, উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মঞ্জু, উপজেলা জেপি’র সহসভাপতি ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পত্তার্শী ইউপি চেয়ারম্যান হাওলাদার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কবির হোসেন বয়াতী প্রমুখ।
গতকাল রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপজেলা জেপি’র কার্যালয়ে এক মোনাজাত ও দোয়া-মাহফিলে শরিক হন। ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনের ইন্তেকালে দলের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে আরও শরিক হন উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা খলিলুর রহমান খলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রশীদ খসরু, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুখ। দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আসলাম।
