স্পোর্টস ডেস্ক
পুরো ম্যাচ জুড়ে বার্সেলোনা আর রিয়াল সোসিয়েদাদের লড়াইটা হলো সেয়ানে-সেয়ানে। শেষ মুহূর্তে ভিএআরের কল্যাণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে পাওয়া লিওনেল মেসির গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ হাসিটা হাসলো বার্সা। এমন জয় লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের ফিরিয়েছে লিগের শীর্ষে।
আগের ম্যাচে রিয়ালের বিপক্ষে তাও প্রথমার্ধে ছন্দে ছিল বার্সা। গত শনিবার রাতে নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই যেন এল ক্লাসিকোর দ্বিতীয়ার্ধের ভূত চেপে বসল কোচ কিকে সেতিয়েনের শিষ্যদের ঘাড়ে। গতিহীন সব পাসের কারণে ওপরে উঠতে পারছিলেন না মেসি, আন্তনিও গ্রিজমান আর মার্টিন ব্রাথওয়েটরা। তারপরও যে কয়টা সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছিল, দুর্বল আর লক্ষ্যভ্রষ্ট সব শটে নষ্ট হচ্ছিল সব।
সফরকারী সোসিয়েদাদও পাল্লা দিয়ে একই ঢঙে সুযোগ নষ্ট করেছে। তবে রক্ষণভাগ থেকে যখন খেলা গড়ে ওপরে উঠছিল কোপা দেল রে ফাইনালিস্টরা, বার্সার চেয়ে শ্রেয়তর দল মনে হচ্ছিল তাদেরই। এমন এক ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন মেসি। না, কোনো চোখধাঁধানো ড্রিবল কিংবা মুহূর্তের জাদুকরী ঝলকে নয়। ম্যাচের ৮০ মিনিটে আর্তুরো ভিদালের ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে হাতে লাগিয়ে বসেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। ভিএআর পরীক্ষার পর পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন বার্সা অধিনায়ক।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবশ্য একটা সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন মেসি। প্রতি-আক্রমণে তার কাছ থেকে পাওয়া থ্রু থেকে আনসু ফাতি বক্সে বল বাড়ান জর্দি আলবার দিকে। স্প্যানিশ লেফটব্যাক বলটা জালে জড়ালেও ভিএআরে দেখা যায় মেসির পাসের আগে অফসাইডে ছিলেন ফাতি। ফলে ১-০ জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বার্সাকে।
পুরো ম্যাচে দাপট ধরে রাখলেও শেষ সময়ের গোলে হেরে সফরকারী কোচ ইমানল আলগুয়াচিল যারপরনাই হতাশ, ‘এই হারটা কিছুটা অন্যায্য। রিয়াল সোসিয়েদাদের অন্তত ড্রটা পাওনা ছিল।’
তবে বার্সা কোচ কিকে সেতিয়েন এই জয়ে সন্তুষ্ট। মাত্রই কোপা দেল রের ফাইনাল নিশ্চিত করে লিগ সূচিতে ফেরা সোসিয়েদাদের বিপক্ষে জয়টা যে সহজ হবে না, সেটা আঁচ করতে পেরেছিলেন আগে থেকেই। বার্সা কোচ বলেন, ‘রিয়ালের বিপক্ষে বার্নাব্যুর জয়টাসহ শেষ ছয় ম্যাচের সবকটিই জিতেছে তারা। আর তাই আমরা জানতাম ম্যাচটা খুবই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।’
এই জয়ে ভিএআরকে ধন্যবাদ জানালেও কোচ সেতিয়েন জানালেন গোলখরা কাটাতে ধৈর্য ধরতে হবে দলকে, ‘এই জয়ে ভিএআরকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। বেঞ্চ থেকে আমি এটা দেখিনি, অনেক দূরে ছিলাম। গোলের সুযোগ সৃষ্টিতে ধৈর্য প্রয়োজন। কখনো আমরা দ্রুত শেষ করে দিতে চাই। এই তাড়াটাই বল হারানোর কারণ। এর কারণে প্রতি আক্রমণও হজম করতে হয়।’
শেষ কদিনে অশান্তিও সঙ্গী ছিল বার্সার। খেলোয়াড়দের রোষানলে পড়েছিলেন সেতিয়েনের সহকারী এডের সারাবিয়া। গত শনিবার ন্যু ক্যাম্পের আশি হাজার দর্শক সহকারী কোচের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তার নাম ধরে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দুয়োও দিয়েছিলেন তারা।
ব্যাপারটায় চটেছেন জর্দি আলবা। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামের দর্শক যখন বিপক্ষে চলে যাওয়ার ব্যাপারটা কেউ পছন্দ করে না। বিশেষ করে তখন যখন আপনি নিজের স্টেডিয়ামে খেলছেন। আমরা সমর্থকদের সম্মান করি, কিন্তু তাদেরও তো আমাদেরকে সম্মান করতে হবে!’
