ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বাখরবা গ্রামে আজ থেকে ৬৬ বছর আগে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন তিনি যে চৌচালা টিনের ঘরটিতে রাত্রি যাপন করেছিলেন সেটি এখনো তার স্মৃতি নিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ঘরটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরের মালিক অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান ও তার ভাইদের মৃত্যুর পর তাদের চাচাতো ভাই তোফাজ্জেল আহমেদ ঘরখানা আগলে রাখতেন। সম্প্রতি তিনি মারা যাওয়ার পর তার ভাইপো বিল্লাল হোসেন দেখভাল করছেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য ঘরটি। জানা যায়, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে এসে বঙ্গবন্ধু এক রাত এ ঘরে কাটিয়ে ছিলেন। ঝিনাইদহ, শৈলকুপা ও হরিণাকুন্ডু থানা নিয়ে গঠিত প্রাদেশিক পরিষদের এ আসনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন মো. কামরুজ্জামান। তার পক্ষে কাতলাগাড়ি স্কুল মাঠে জনসভার আয়োজনে যোগ দিতে তিনি এখানে এসেছিলেন। মৃত্যুর বছরখানেক আগে তোফাজ্জেল আহমেদ ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, কুষ্টিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু ট্রেনে করে খোকসা আসেন। সঙ্গে ছিলেন খুলনার শেখ আব্দুল আজিজ ও বরিশালের মহিউদ্দিন আহমেদ। বিকালে কাতলাগাড়ি স্কুল মাঠের জনসভায় যোগ দেন। সভা থেকে ফিরে এসে এ টিনের ঘরে রাত্রি যাপন করেন। নির্বাচনে এ আসনে মুসলিম লীগের ডাকসাইটে নেতা বশির উদ্দিন মজমাদার বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে ছিলেন। এ বাড়ির ছেলে বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি মুরব্বিদের কাছে শুনেছেন বঙ্গবন্ধু তাদের বাড়িতে এসেছিলেন এবং দুই দিন ছিলেন। ঘরটি একেবারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, অধ্যক্ষ মরহুম মো. কামরুজ্জামানের মেয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য পারভিন জামান কল্পনার সঙ্গে কথা বলে ঘরটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিব।
