উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়েরকৃত মামলায় কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলা থেকে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত হাতিয়া গণহত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এ এলাকার সকল হত্যাকাণ্ড তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের পর যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরই প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উলিপুর অঞ্চল আল মাহমুদ হাসান ও অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচটি টিম গত শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১২ জন অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া ভবেশ গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে মাওলানা আকবর আলী (৭৮), ডোবার পাড় (তত্কালীন রামখানা) গ্রামের মৃত আ. জলিলের ছেলে শাহাজাহান আলী (৬৮), ঐ গ্রামের মৃত নজিম উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান ওরফে সৈয়দ মাওলানা (৬২), উপজেলার দূর্গাপার ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামের মৃত আ. জব্বারের ছেলে নুর ইসলাম (৫৮), একই এলাকার ইরফান আলীর দুই ছেলে ইছাহাক আলী (৬৩) ও ইসমাইল হোসেন (৬৬), একই এলাকার মৃত আমান উল্লার ছেলে ওসমান আলী (৬৮), মতিউল্লার ছেলে আব্দুর রহমান (৬৩), বছিয়ত উল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৭২), আ. জব্বারের ছেলে আব্দুর রহিম (৬৩), মৃত ফজল উদ্দিনের ছেলে আ. কাদের (৬৫) ও উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের দিগর মালতিবাড়ি গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন সরকারের ছেলে মফিজুল হক (৮০)।
এদিকে একই মামলায় জেলার রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের নলকাটা বালাকান্দি গ্রামের মৃত শরফ উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন দেওয়ানীকে (৭০) গ্রেফতার করে রাজারহাট থানা পুলিশ। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের দাগারকুটি, রামখানা, নীলকণ্ঠসহ আশপাশের গ্রামে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, রাজাকার-আলবদর ও স্থানীয় দালালরা মিলে প্রায় ৭০০ নিরীহ-নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। তারা গ্রামগুলো জ্বালিয়ে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করে। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদালতে হাজির করা হবে।
