করোনা মোকাবিলার সক্ষমতা আছে উদ্বেগের কিছু নেই :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ২২:৩৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সরকার ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যে কোনো জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে তাত্ক্ষণিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা (স্বাস্থ্যবিধি) মেনে চলতে হবে।

 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে গতকাল জয়িতা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’ শীর্ষক এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নিয়ে সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি, যাতে তারা এগিয়ে যেতে পারে। কাজেই তারা যেখানেই যাচ্ছে তাদের পারদর্শিতা দেখাচ্ছেন। মেয়েরা যে পারে সেটা আজ প্রমাণিত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পদে কখনো কোন মেয়েরা পদোন্নতি পায়নি। এখন অনেক মহিলা বিচারপতি আছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে মেয়েদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। কারণ মেয়েরা সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য আমি সত্যিকার অর্থেই গর্বিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীরা যত শিক্ষিত হবে, নারীরা যত স্বাবলম্বী হবে সমাজ তত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। কারণ সমাজের অর্ধেক অংশকে অকেজো রেখে একটি সমাজ সঠিকভাবে চলতে পারে না। সে সমাজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্পিকার, সংসদ উপনেতা, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতাসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। নারীদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতা জোর করে হয় না। ক্ষমতা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করে নিতে হয়। ক্ষমতা কেউ হাতে তুলে দেয় না। সেভাবেই আমাদের বোনদের নিজেদের তৈরি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে সমাজকে রক্ষায় পুরুষদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নারীদের ওপর এ ধরনের পাশবিক অত্যাচার করে, তারা সমাজে সব থেকে জঘন্য। তাদের মানুষ বলতে ইচ্ছা করে না, এরা পশুর চেয়েও অধম। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পুরুষ সমাজকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশে নারীদের চেয়ে ছেলেরা পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে জেন্ডার গ্যাপ সমস্যার সমাধানে এর কারণ খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণেও সংশ্লিষ্ট মহলকে পরামর্শ দেন তিনি। দেশে নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় বেগম রোকেয়াসহ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ইউএন উইমেনের এ দেশীয় প্রতিনিধি এবং ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়ক শোকো ইশিকাওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জয়িতা পদকে’ ভূষিত সফল পাঁচ জন নারীকে সম্মাননা জানান। পদকপ্রাপ্তরা হলেন—আনোয়ারা বেগম, ডা. সুপর্ণা দে সিম্পু, মরহুম মমতাজ বেগম, অরনিকা মেহেরিন ঋতু এবং সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ও নারী উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র পরিবেশিত হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।