জি কে শামীমের জামিন বাতিল

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ২২:৩৫

অস্ত্র ও মাদক মামলায় এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে দেওয়া জামিন বাতিল করেছে হাইকোর্ট। যুবলীগ নেতার পরিচয় দিয়ে বেড়ান প্রভাবশালী এই ঠিকাদারের জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরপরই হাইকোর্টের পৃথক দুটি ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার তার জামিন আদেশ রিকল করেন। আদালত বলেন, কার্যতালিকায় নামের বিভ্রাট ছিল।                 এই কারণে হয়তো সেদিন আমাদের বুঝতে ভুল হয়েছে। তাই জামিনের আদেশ রিকল করছি (প্রত্যাহার)। এরপরই হাইকোর্ট জামিন বাতিলের আদেশ দেয়।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ শামীমকে অস্ত্র মামলায় ছয় মাস এবং মাদক মামলায় এক বছরের জামিন দেয়। এক মাস পর গত সোমবার ওই জামিননামা ঢাকার নিম্ন আদালতে দাখিল করা হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এ নিয়ে গতকাল সারাদেশে আলোচনার শীর্ষে ছিল জি কে শামীমের জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি। এ অবস্থায় হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ জামিন আদেশ রিকল করেন।

অস্ত্র মামলা :বেলা ১টায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বসে। এর আগে আদালত কক্ষের দরজায় টাঙানো হয় সম্পূরক কার্যতালিকা। যেখানে লেখা ছিল এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি আপিল নং:১৪১১৯/১৯)। কিন্তু গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঐ বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় মামলাটি এসেছিল এস এম গোলাম বনাম রাষ্ট্র নামে। আসামির পুরো নাম কার্যতালিকায় না আসার বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে।

শুরুতে শামীমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মমতাজউদ্দিন মেহেদীর উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, জামিন মঞ্জুরের দিন মামলাটি কী নামে কার্যতালিকায় এসেছিল? আইনজীবী বলেন, গোলাম কিবরিয়া শামীম নামে। রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এফআর খান বলেন, গোলাম কিবরিয়া শামীম নামে নয়, এসেছিল এস এম গোলাম নামে। পুরো বিষয়টিতে তথ্য গোপন করা হয়েছে। ঐ সময় আমাদের কাছে জামিন আবেদনের কপি ছিল না।

আইনজীবী মেহেদী বলেন, এটা সিনিয়র ব্রিফ মামলা। জামিন আবেদনকারীর নাম কীভাবে কজলিস্টে লেখা হয়েছে সেটা জানি না। শামীমের অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করায় এই মামলা হয়েছে, যার সাজা মাত্র ছয় মাস। চার মাস ধরে কারাগারে আছেন। জামিন তো পেতেই পারেন। ডিএজি বলেন, এটা তো জি কে শামীমের মামলা। আদালত বলেন, আমরা কখনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের জামিন দেই না। এই মামলায় নাম বিভ্রাটের জন্য হয়তো আদেশ হয়ে থাকতে পারে। এরপরই হাইকোর্ট অস্ত্র মামলায় শামীমের জামিন আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। আদেশের পর ডিএজি এফ আর খান বলেন, প্রকৃত নাম গোপন করে মিথ্যায় আশ্রয় নিয়ে শামীমের জামিন হাসিল করা হয়েছিল।

মাদক মামলা :পাঁচ বোতল বিদেশি মদ রাখার অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে এক বছরের জামিন দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। ঐ আদেশ গতকাল রিকল করা হয়। দুপুরের পর হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল খারিজ করে দেয়। এর ফলে শামীমের জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা। তিনি বলেন, যেদিন জামিন নেওয়া হয় সেদিন এস এম গোলাম কিবরিয়া নামে মামলাটি কার্যতালিকায় ছিল। এখানেও প্রকৃত নাম গোপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী যা বললেন :আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেফতার জি কে শামীমের দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের না জানা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, আইনে স্পষ্ট বলা আছে, জামিনের ব্যাপারে দুই পক্ষকে শুনতে হবে। এখানে যদি সেটার ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আর যদি ব্যত্যয় না হয়ে থাকে, যিনি আইন কর্মকর্তা ছিলেন তিনি জানতেন না বলছেন, সেটার তদন্ত করা হবে। গতকাল রবিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘ব্যবসা সহজীকরণের সম্পত্তি নিবন্ধন সূচক নিয়ে কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা’ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছি, কেন রাষ্ট্রপক্ষ জানত না এবং যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল, তাদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, এটা দেখার জন্য।

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতন থেকে গ্রেফতার হন বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীম। ঐদিন জিকে বিল্ডার্সের অফিস থেকে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানায় র্যাব।

এর আগে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের ভূমি রেজিস্ট্রেশন-প্রক্রিয়া অটোমেশন করা হবে এবং এরই মধ্যে এ সম্পর্কিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি বলেন, দেশটাকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং বিভাগের সচিব নরেন দাস, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, ঢাকা মেট্টোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি নিহাদ কবীর প্রমুখ বক্তৃতা করেন।