একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জে মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন আসছে নতুন নতুন চালান। নির্বাচনের কারণে মাদক সেবীদের কাছে মাদকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মাদক কারবারিরা বড় বড় মাদকের চালান আনছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় এ সুযোগে মাদক কারবারিরা সরব হয়ে উঠেছে। তবে মাঝে মধ্যে দু-একটি চালান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ছে।
সোমবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া লঞ্চ ঘাট হতে ৭১০ বোতল ফেনসিডিলসহ লৌহজংয়ের গোয়ালী মান্দ্র বেদে সম্প্রদায়ের ৫ নারী-পুরুষকে আটক করেছে লৌহজং থানা পুলিশ। লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, পুলিশের নিকট সংবাদ ছিল ফেনসিডিলের একটি বড় চালান শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে পাচার হচ্ছে। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লৌহজং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান ও এসআই হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে লৌহজং থানা পুলিশের একটি টিম শিমুলিয়া ঘাটে ওঁত্ পেতে থাকে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে শিমুলিয়া লঞ্চ ঘাটের জনৈক শুকুর এর খাবার হোটেলের পাশের রাস্তা হতে ৭১০ বোতল ফেনসিডিলসহ লৌহজং উপজেলা গোয়ালীমান্দ্রা বেদে পল্লীর এরশাদ সাপুরিয়া (২৬), মো. বাবুল সাপুরিয়া (৩৫), মো. সিনবাদ (২০), তাসলিমা বেগম (২৪) ও রুমা আক্তারকে (৩৪) আটক করা হয়। পরে রাতে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগেও শিমুলিয়া ঘাট হতে একটি ফেনসিডিলের চালান ধরা পড়ে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন লৌহজংয়ের গোয়ালী মান্দ্রা ও খড়িয়া বেদেপল্লীসহ মাদক পল্লী হিসেবে পরিচিত মেদিনী মণ্ডলের মামুদ পট্টিতে এখন মাদক ব্যবসা জমজমাট। প্রতিদিন মোটর সাইকেলে করে উঠতি বয়সের তরুণরা এ সকল এলাকায় আসছে মাদক কিনতে। তারা ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক সংগ্রহ করছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনের কারণে তরুণদের কাছে এখন ইয়াবা ও ফেনসিডিলের চাহিদা বেড়ে গেছে। নির্বাচনী মিটিং মিছিলের ফাঁকে ফাঁকে তরুণরা এখন থেকে ইয়াবা ও ফেনসিডিল কিনে প্রকাশ্যেই খাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বেদে পল্লীর মাদক কারবারিরা যশোর বেনাপোল বর্ডার হতে ফেনসিডিলের চালান সংগ্রহ করে সড়ক পথে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে সাপের ঝুড়িসহ অভিনব কায়দায় এ সকল চালান নিয়ে আসছে লৌহজংয়ের বেদে পল্লীসহ মামুদ পট্টি এলাকায়। আবার ঢাকা থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক দিয়ে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে বেদে পল্লীর লোকজন। তারা শ্রীনগর ফেরি ঘাট বাস স্ট্যান্ডে নেমে সেখান থেকে রিকশা ও অটোতে করে এসব চালান নিয়ে আসছে গোয়ালী মান্দ্রা বেদে পল্লীতে। এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব বেদে পল্লীতে মাদকের বেচা কেনা বেড়ে গেলেও কোন অভিযান চলছে না। তাই মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে মাদক বেচা-কেনা করছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) কাজী মাকসুদা লিমা বলেন, মাদকের প্রতি আমাদের সব সময় নজরদারী আছে। এ কারণে মাঝে মধ্যে মাদকের চালানও আটক হচ্ছে। তবে বেদে পল্লীর উপর নজরদারী বাড়ানো হবে। মাদক কারবারিদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না।
