ক্যাজুয়াল পোশাকে এথনিক প্রিন্ট

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২০, ১৯:৩০

 

l মিমি হক

 

সময়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে পোশাকের কাট, প্যাটার্ন ও ডিজাইন। তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন ফ্যাশন ধারা। টেইলারিং জামাকাপড়ের পরিবর্তে রেডি টু ওয়্যার এখন ফ্যাশনে ইন। কেননা এতে আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডের ছোঁয়া মিলে নান্দনিকভাবে। পাশাপাশি দেশের তরুণ-তরুণীরা এখন আবহাওয়া উপযোগী আরামদায়ক পোশাকে নিজেদের প্রতিদিনের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে পছন্দ করে। বসন্তের এই সময়ে এথনিক প্রিন্টের পোশাক থাকতে পারে তাদের পছন্দের তালিকায়। কেননা আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডেও রয়েছে এর প্রাধান্য। সঙ্গে ডিজাইনারদের মুন্সিয়ানায় প্যাটার্ন ও ডিজাইনে এসেছে নানা পরিবর্তন। শুরুতেই আসি টপসের কথায়। টপস বলতে শরীরের উপরিভাগের পোশাককে বোঝানো হলেও প্রচলিত অর্থের দায়ে তা মেয়েদের পোশাক বিশেষ বলে চিহ্নিত। এবার তবে আসল কথায় আসি। ফ্যাশনে সময়টা এখন বসন্তকাল। সেহেতু বডি কাটিংয়ে দু-চারটা নতুনত্ব তো চোখে পড়েই। তাও পূর্ব ফ্যাশনের বাইরে নয়। তেমনি কিছু ডিজাইনের মধ্যে ঢোলা, কার্ভ স্লিভ, বেল স্লিভ উল্লেখযোগ্য। তবে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়বে ব্যাসিক প্যাটার্ন, ফ্রক কাট ও গাউন কাট। আর ট্রেন্ডি কামিজ বা টপসে সময়ের রঙ, দেশি মোটিফ এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতির মিশ্রণে পরিলক্ষিত হয় এখন এথনিক কিংবা ট্রইবাল লুক। ডিজাইন, চিত্রশিল্প, আলোকচিত্রের উত্সাহ হিসাবে ফুলের বিচিত্রতা, বিশেষত্ব চিরকালীন। আর নারী ও ফুলের বিশেষ মিল রয়েছে সৃষ্টি থেকে। ফ্যাশনে তাই মেয়েদের ডিজাইনের চিন্তা সহজ করে দেয় ফুলেল মোটিফ। এবং তা সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে। মেয়েদের টপস, শর্ট কামিজ, গাউনের মতো ড্রেসে ফ্লোরাল, ট্রপিক্যাল ও এথনিক প্রিন্টের ব্যবহার তাই একদম খাপেখাপ। প্রিন্টে এ ধরনের ডিজাইন বেশি বাস্তব দেখায়। হাল ফ্যাশনে মেয়েদের পছন্দের পোশাকে দেখা মেলে এ ধরনের প্রিন্ট।

বুনন বা টেক্সারে ডিজাইনের প্রধান ফোকাস বেশি দেখা যায় মেয়েদের লং কামিজের। আর চলতি ট্রেন্ডে বিশদ আকারে চোখে পড়ে এথনিক কিংবা ট্রাইবাল মোটিফের টেক্সার। এথনিক কিংবা ট্রাইবাল মোটিফ পোশাকে ভিন্ন শৈলী এনে দেয়। তবে অনেকটা স্ট্রেইট অথবা সিম্পল কাটের প্যাটার্নেই ভালো মানায় এ ধরনের টেক্সার। আর ভালো ডিজাইনে প্রয়োজন হয় কালার ম্যাচিং এবং কনট্রাস্টের। এর বাইরে পরিলক্ষিত হয় জ্যামিতিক নকশা। অথবা অলওভার অন্যকোনো প্রিন্ট। এ সময়ের ফ্রক প্যাটার্ন অথবা ব্যাসিক প্যাটার্নের টপসে ব্যবহূত মূল কাপড় দু’টি। তা হবে, সুতি অথবা লিনেন। কোনটি এই দু'টি সংম্রিশনে। মেয়েদের এই ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই হবে চাপা প্যান্ট। অর্থাত্ এমন টাইট প্যাটার্নের প্যান্ট বা সালোয়ার। তা হতে পারে লেগিংস অথবা গ্যাবার্ডিন কাপড়ের চিনোস প্যান্ট। কিংবা ডেনিমের স্লিম ফিট কাটিং। তবে একটি জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি। তা হচ্ছে, টপসের সঙ্গে প্যান্ট অবশ্যই মানিয়ে পড়তে হবে। ট্রেন্ডে এখন এ দু’য়ের কনট্রাস্ট চলমান। মানে প্রিন্টেড টপসের সঙ্গে এক রঙের চাপা প্যান্ট মানানসই। তাও যতটা সাধারণ রঙের মধ্যে সেরে ফেলা যায়, তত ভালো। এই যেমন সাদা, কালো, ইনডিগো। দেশীয় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের মধ্যে সমকালীন ধারাবাহিকতায় লাইফস্টাইল স্টোর সেইলর ঐতিহ্যের সঙ্গে আভিজাত্যের মিশেলে তৈরি করছে ফেস্টিভ বা স্ট্রিট ক্যাজুয়াল ফ্যাশন আউটফিট। রেডি টু ওয়ার রিটেইল স্টোর বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইন সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সেইলরের রয়েছে নিজস্ব ডিজাইন স্টুডিও। সেইলরের সিইও রেজাউল কবির জানান, ‘সেইলরের তৈরি পোশাকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন এবং ক্রেতা চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাই পোশাকে প্যাটার্ন ও কাট বৈচিত্র্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে এমব্রয়ডারি, রুচিশীল ফেব্রিক এবং প্রিন্টেড ভ্যালু এডিশন। মেয়েদের টপস, কামিজসহ ছেলেদের জন্য রয়েছে নজরকাড়া শার্ট, টিশাট পাঞ্জাবি। আর এসব পোশাকে মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ডিজিটাল প্রিন্ট, অ্যাপ্লিক, মেশিন এমব্রয়ডারি ও ফুলের নকশা। আর এসব পোশাক পরতেও আরামদায়ক।’ ক্যাজুয়াল ফ্যাশন বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয়। তা এদেশের বেলাতেও একই। ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে বৈশ্বিক ট্রেন্ডের এক অংশে দেখা যায় শার্ট,  পোলো শার্ট এবং টি-শার্ট পরার চল। ছেলেদের জন্য পোলো শার্ট গরমের জুতসই জামা। একই সঙ্গে পোলো শার্টের কাপড় হোক খুবই মসৃণ এবং পাতলা। আমাদের দেশে কটনের চল সবচেয়ে বেশি। পোলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একরঙা মানানসই। যা ক্লাসিক। তবে স্টাইপেরও ফ্যাশন উপযোগী। এই পোশাকের ক্ষেত্রে মাথায় জরুরি এর কলারের রিব ফেব্রিক যেন ভালো মানের হয়। পোলোর বাটন ডিজাইনে বড় ভূমিকা রাখে। বাটনগুলো একটু মোটা এবং কাপড়ের বিপরীত কোনো রঙের হলে তা হাল ফ্যাশনে বেশি মানাবে। পোলো পরার ক্যাজুয়াল ফ্যাশন এই যুগে পৌঁছে গেছে কর্পোরেট হাউস পর্যন্ত। মার্জিত একটি পোলো, সঙ্গে চিনোস ও লোফার অনেকটা সেমিফরমালের ভাব এনে দেয়। তবে বইয়ের ভাষায় তা অবশ্যই ক্যাজুয়ালই থাকবে। আসল সেমিফরমাল তবে ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে চিনোস, জিন্স অথবা ফরমাল প্যান্টের ইন করাকে ইঙ্গিত করে। ক্যাজুয়াল শার্টের মধ্যে চেক প্রিন্টের জায়গা সবর্দাই থাকে। তবে ফ্যাশন পরিবর্তনের তাগিদে এখন প্রচলিত অন্যান্য প্রিন্টের শার্ট। তবে মাথায় রাখতে হবে বসন্ত ও গরম—এ দুই। ঈদে অন্যের বাসায় দাওয়াত খাওয়া, অনুষ্ঠান, পার্টির জন্য অনেকেই ঈদ পোশাকে নাম রাখেন শার্টের। এক্ষেত্রে তাই কটনের শার্ট জুতসই হবে। বেশি ওজনের কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো এ সময়ে। আর গ্যাবার্ডিন কাপড়ের চিনোসের জন্য রঙ বেছে নিন অ্যাশ, খাকি, বিস্কুট, কফি, ব্ল্যাক, অফ হোয়াইট। ক্যাজুয়াল শার্ট, লোফারের সঙ্গে চিনোস বা ডেনিম পরার রয়েছে আরেকটি সুবিধা। এটি আপনি ইন করে পরলে তা সেমিফরমাল লুক এনে দেয়, আর ইন ছাড়া পরলে সম্পূর্ণ ক্যাজুয়াল।

                 মডেল      তোরসা, তিথি

                        সালমান ও তানজিম

           পোশাক      সেইলর

               ছবি      নোমান