বিশ্বজিত্ রাহা, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোকবল সংকটে চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মূল ভবনের পাশে আরেকটি ভবন নির্মাণ করে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা বাড়ানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ৫০ বেডের পর্যাপ্ত ডাক্তার ও লোকবল না পাওয়ায় ৩১ বেডের জন্য বরাদ্দকৃত লোকবল এবং সামগ্রী দিয়েই চালাতে হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পূর্বে ঐ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনটির বিভিন্ন অফিস রুম এবং ওয়ার্ডগুলোর ছাদের পলেস্তারা অনেক স্থানে খসে পড়েছে। এছাড়া ভবনটির মেঝের অনেক স্থানে ভেঙেচুরে গেছে। এছাড়া গত দুইবার বন্যায় মূল ভবনটি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে এটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে গেছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান। তিনি বলেন, তবে কোনো ওষুধ সংকট নেই।
জানা গেছে, উপজেলা হাসপাতালটিতে বর্তমানে ডাক্তার নার্স কর্মচারীসহ মোট ৭৮ জনের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত আছে মোট ৫৬ জন। এর মধ্যে ছয় জন ডেপুটেশনে অন্যত্র কাজ করে। ফলে হাসপাতালটিতে আছে ৫০ জন লোকবল। এর মধ্যে মোট নয় জন ডাক্তারের মধ্যে এক জন ডেপুটেশনে এবং একজনের পদ খালি। ফলে সাত জন ডাক্তার দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চলছে। এছাড়া মেডিসিন কনসালট্যান্টসহ তিন জনের পদ খালি, ওয়ার্ডবয় তিন জনের মধ্যে আছে ১ জন। কোনো আয়া নেই, পাঁচ জন ঝাড়ুদারের মধ্যে দুই জন আছে। পাঁচ জন অফিস সহকারীর মধ্যে এক জন আছে। ফার্মাসিস্ট দুই জনের মধ্যে আছে এক জন।
হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা হাটহাজারীর জামাল উদ্দিন (৪৭), ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউপির তানজিলা আক্তার (৩৬), দৌলতপুর এলাকার ফয়েজুল ইসলাম (৫০) বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিত্সক সংকট আছে। তাতে চিকিত্সা সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আগে ডাক্তাররা কিছু হলে, না দেখেই চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যেতে বলত। এখন আর তা বলেন না।
হাসাতালটির নানামুখী সমস্যা সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, হাসপাতালের ভবন এবং লোকবল সমস্যাসহ অন্য সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।
