গায়ের জোর টিকিবে না

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২০, ২১:৪৬

নব্য সাম্রাজ্যবাদের অপতত্পরতায় বিশ্ব অশান্তি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়া চলিয়াছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করিতে সম্পাদিত হইয়াছে শান্তিচুক্তি। কিন্তু এই চুক্তির পরও ঘটিয়াছে হামলা ও পালটা হামলার ঘটনা। ইহাতে শান্তিকামী মানুষ আজ আশাহত। এইখানে সবচাইতে বড়ো ও জরুরি প্রশ্ন হইল, সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হইয়া কোনো একটি দেশে কেন হামলা চালানো হইতেছে? বত্সরের পর বত্সর সৈন্য রাখিয়া অন্যের শান্তির ঘুম কাড়িয়া লওয়া হইতেছে। দেখা যাইতেছে, বিশ্বের উন্নয়নশীল অথচ সম্পদশালী দেশগুলিতেই বড়ো শক্তিরা বারংবার আসিয়া হানা দিতেছে। হীন স্বার্থের কারণে তাহারা সেই দেশকে তছনছ করিয়া দিতেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করিয়া, তাহাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করিয়া, মানুষকে পথের ভিখারি বানাইয়া, বিশ্ব জুড়িয়া ভয়াবহ শরণার্থী সমস্যা সৃষ্টি করিয়াও তাহারা ক্ষান্ত হইতেছে না। এই সীমাহীন লোভ ও আত্মঅহমিকাই একসময় তাহাদের ধ্বংসের কিনারে লইয়া যাইবে। অবসান ঘটিবে এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদের। কিন্তু তাহার পরই অন্য এক সাম্রাজ্যবাদ যে নূতন রূপে নূতন চেহারায় মাথাচাড়া দিয়া উঠিবে না তাহার নিশ্চয়তা নাই। যুগ যুগ ধরিয়া বিশ্ব অশান্তির ইহাই মূল কারণ।

এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল অনেক দেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু কিছুতেই তাহাদের উঠিয়া দাঁড়াইতে দিতেছে না কিছু সামরিক শক্তিসম্পন্ন দেশ। আলোচ্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি যেন সাম্রাজ্যবাদের এক লীলাক্ষেত্র। আবার মৃত্যুকূপও বটে। প্রথম মহাযুদ্ধের পর বিপ্লবের মধ্য দিয়া কমিউনিস্ট সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তিতে গঠিত হইয়াছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। পূর্ব ইউরোপ, চীন এমনকি আমেরিকারও কোনো কোনো অঞ্চলে ইহার প্রভাব বিস্তার হইয়াছে। এই সাম্রাজ্য টিকাইয়া রাখিতে গঠিত হয় সামরিক জোট এবং তৈরি করা হয় ছোট-বড়ো হাজার হাজার মারণাস্ত্র। তাহার বিপরীতে গড়িয়া উঠে বিশাল পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যও। উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়া এমনকি বলপ্রয়োগ করিয়া নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পথ প্রশস্ত করা হয়। তাহাদের বদান্যতায় বিভিন্ন উপনিবেশ স্বাধীনতা লাভ করিল বটে, তবে পরাধীনতার শৃঙ্খল অদৃশ্যভাবে ঠিকই বজায় রহিল। পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন এবং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতার নামে গড়িয়া উঠিল এক নব্য সাম্রাজ্যবাদ। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় সেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে আসিয়াই কমিউনিস্ট সাম্রাজ্য ভাঙিয়া পড়িল। বিশ্বমঞ্চে বিপরীত শক্তিটির আবির্ভাব ঘটিল একক পরাশক্তি হিসাবে। ইহার পর একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে টুইন টাওয়ারে হামলার মাধ্যমে প্রাচীন ও মধ্যযুগের ধারাবাহিকতায় ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ মাথাচাড়া দিয়া উঠিতে চাহিল। এই প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন ধর্মের উগ্রবাদী চেতনার বিস্তার ঘটিতে লাগিল।

শুরু হইল বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের নামে একের পর এক দেশ দখল। তেলসম্পদের আকর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজও যুদ্ধ-বিগ্রহ চলমান। ইহার শেষ কোথায় আমরা জানি না। ভিন্ন পোশাকে ও মোড়কে থাকা নব্য সাম্রাজ্যবাদীদের গতিবিধি ও গতিমতি বুঝিয়া উঠিতে না পারিলে আমাদের সর্বনাশের আর বাকি থাকিবে না। তবে বিশ্বে এই অন্যায় সব সময় চলিতে পারে না। মার খাওয়া জাতিগুলি ঘুরিয়া দাঁড়াইবে। সেই জন্য দেশগুলিকে আরো সচেতন হইতে হইবে।