করোনার ছোবল বাংলাদেশেও :আমরা কতটা প্রস্তুত?

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২০, ২১:৪৭

মীর আব্দুল আলীম

শত দেশে করোনা ছড়ালো। করোনার ছোবল বাংলাদেশেও। এই লেখা পর্যন্ত এদেশে তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে বলে আইইডিসিআর দাবি করেছে। করোনায় করুণা করছে না কাউকে। মানুষ মরছে প্রতিদিন। আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকা দরকার। আমরা কতটা প্রস্তুত? আর কতটা সতর্ক? সতর্কতা খুবই কম। রাজধানীকেন্দ্রিক প্রস্তুতি থাকলেও জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি তেমন চোখে পড়ে না।  জেলাসদরে ডিসি এবং সিভিল সার্জন হাসপাতাল মালিকদের নিয়ে সভা করেছেন কেবল।

হাসপাতালগুলোকে করোনার জন্য ইউনিট তৈরি করতে পারেননি বলেই জানি। জেলায় এক দুটি কোয়ারেন্টাইন কক্ষ রাখা হয়েছে মাত্র। জনবল কম। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তাতে সামাল দেওয়া কঠিনই হবে। আমাদের জনগণও সচেতন নয়। একবার করোনা ছড়িয়ে পড়া শুরু করলে সর্বনাশ হয়ে যাবে! এজন্য আগেভাগেই জনগণকে সচেতন করে তুলতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা দরকার। সভা-সেমিনার করা দরকার। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ সবখানে সভা, সেমিনার করে জনগণকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বুঝাতে হবে। যা এখনো চোখে পড়ছে না আমাদের। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ঘনীভূত করোনা আতঙ্ক। যত দিন গড়াচ্ছে, করোনা ভাইরাসের হানায় সন্ত্রস্ত হচ্ছে গোটা দুনিয়া। এরই মধ্যে চীন থেকে ‘করোনা ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।

এ ভাইরাস এদেশে প্রবেশ করলে কেবল মানুষই মরবে না, দেশের অর্থনীতির চাকা একেবারে অচল হয়ে পড়বে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। সেই থেকে করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্বে  ৩ হাজারেরও  বেশি লোক মারা গেছে।  চীন ছাড়াও ইতালি, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ ১০২টি দেশে লক্ষাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ ভাইরাসে আরো অনেক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু মানুষের জীবন নয়, এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। সারা দুনিয়ায় করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে চীনসহ কয়েকটি দেশে। আতঙ্ক বিশ্ব জুড়ে। চীনে রেড এলার্ট জারি হয়েছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে উহানসহ বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। অনেকের বাসায় খাবার পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে। যেভাবেই ছড়াক এ ভাইরাসে এখন আমাদের সতর্ক হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। মনে রাখতে হবে  রোগব্যাধি নিয়ে আতঙ্ক নয়, দরকার হলো সতর্কতা ও সচেতনতা। চীন  থেকে ‘করোনা ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। করোনা ভাইরাসে গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটলে এ পর্যন্ত চীনে  কমপক্ষে ৪০০ লোক মারা গেছে। চীন ছাড়াও থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ ১৮  দেশে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা ভাইরাস যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না পারে সে ব্যাাপারে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন। বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। পরামর্শ পর্যন্তই যেন তা সীমাবদ্ধ না থাকে। করোনা ঝুঁকি এড়াতে অধিক সতর্কতা জরুরি এখন। কারণ বাংলাদেশ এখন বিশ্ব আগ্রহের জায়গা। বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই বাংলাদেশে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ফলে এই ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রবেশ করার শঙ্কা প্রবল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব মহল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটি আমাদের আশা এবং স্বস্তির বিষয়। তবে শুধু সরকারের পদক্ষেপের ওপর ভরসা করে থাকলেই চলবে না, জনগণকেও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন-ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করা, বেশি লোক সমাগম হয় অর্থাত্ সভা-সমাবেশস্থলে উপস্থিত না থাকা, হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া—এগুলো  মেনে চলতে হবে। এরই মধ্যে আগাম সতর্কতামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এবং আইএইচআর স্বাস্থ্য  ডেস্কগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং (শনাক্ত) কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।  এসব কার্যক্রম যেন কার্যকরি থাকে  সেদিকে নজরদারি দিতে হবে।

২০০২-০৩ সালে চীন হংকংসহ দুই ডজনেরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়া সার্স মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১০০-এর কাছাকাছি। করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাস আগের সিভিয়ার অ্যাকুট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে (সার্স) আক্রান্তের সংখ্যাকে অতিক্রম করেছে। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ক্রমেই মহামারির আকার নিচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্ত হতে বাদ নেই এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাও। বিমানযাত্রীদের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে এ ভাইরাস। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। বাংলাদেশের মানুষ আরো আতঙ্কে আছে। করোনা ভাইরাস যাতে আমাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে, তাছাড়া প্রবেশ করলেও যাতে সতর্ক থাকা যায় সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। বাংলাদেশি ১৬ কোটি মানুষের সুরক্ষায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করছি।

n লেখক : গবেষক