গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের অনুমোদনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে চার দপ্তর তালাবদ্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম।
গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন। দাবি আদায়ে তারা ৩৩ দিন ধরে আন্দোলন ও পাঁচ দিন ধরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। অনশনরত চার শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন হলেন—তৃতীয় বর্ষের ইন্দ্রানী বাছাড়, লিজান সরদার, নাঈমা আক্তার ও পিংকি বিশ্বাস।
ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিভাগের অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের সব আন্দোলন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, ইউজিসির গঠিত কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ২৪ মার্চ ইউজিসির বৈঠকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জামায়াত-শিবির বলার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে উপাচার্যসহ অন্যদের আলোচনা চলাকালে অবরুদ্ধ করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, দুপুরে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও প্রক্টরসহ অন্যদের সামনে কথোপকথনের একপর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওয়ালিদ মিয়া আমাদের জামায়াত-শিবির বলেন। তবে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওয়ালিদ মিয়া বলেন, আমি কাউকে জামায়াত-শিবির বলিনি। আমি বলেছি ১৭ মার্চের কর্মসূচি পালন করতে না পারলে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে। তাই তালা খুলে দিয়ে মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালনে সহায়তা করতে বলি শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের জামায়াত-শিবির বলে মন্তব্য করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মো. শাহজাহান।
