অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ০০:৩৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। তারপরও আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড়ো কথা। আমাদের জন্য কষ্ট ও বেদনার হলেও জনস্বার্থ ও জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা চাই, কোথাও বড়ো ধরনের লোকসমাগম যাতে না হয়, জনগণ যেন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে। এ জন্য মুজিববর্ষের জনসমাগম (প্যারেড গ্রাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান) আপাতত বন্ধ রেখেছি। পরে সময়সূচি ঠিক করে আমরা তা পালন করব।’ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে মুজিববর্ষের সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও দলীয়ভাবে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন নিয়ে আলোচনা এবং বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনা সৃষ্টি করতেও দলগতভাবে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা ঢাকার তিনটি হাসপাতাল ও জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রেখেছি। আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণ সবচেয়ে বড়ো। আমরা মুজিববর্ষ উদ্যাপন করব, কিন্তু উদ্যাপনটা একটু ভিন্নভাবে হবে।’

মুজিববর্ষের সব কর্মসূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনেছি। ব্যাপক লোকসমাগম বা ব্যাপক গ্যাদারিং হবে এমন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রেখেছি, পরবর্তী সময়ে করা হবে।  মুজিববর্ষের ব্যাপক কর্মসূচি পুনর্বিন্যস্ত করার এই সিদ্ধান্ত আমাদের পরিবারের জন্য অনেক কষ্টের হলেও জনস্বার্থ ও জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করেছি। আমরা এ নিয়ে বৈঠক করেছি। বৈঠকে শেখ রেহানা, সায়মা হোসেন পুতুল, রেদওয়ান ববিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিল। সবাই মিলে আমরা মতামত দিয়েছি। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও বলে দিয়েছি, আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণটাই সবচেয়ে বড়ো।’

মুজিববর্ষ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বছরব্যাপী মুজিববর্ষের কর্মসূচি রয়েছে। উদ্বোধনী দিনে (বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ) লাখো মানুষের সমাগম হতো, মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনাও ছিল। কিন্তু জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে তা স্থগিত করেছি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে শিশু দিবসের কর্মসূচিও বন্ধ রাখতে বলেছি।  মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে থিম সং, প্রশিক্ষণ, স্যুভেনির তৈরি করা হয়েছে, তা বের করা হবে। অন্যান্য কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।