নিজেদের মধ্যের হিরোকে বের করে আনার জন্য দারুণ কিছু কাজ করে যাচ্ছে ‘হিরোজ ফর অল’। ২০১৬ সালে সংগঠনটি নিবন্ধিত হয় প্রথমে নিউ ইয়র্কে। পরে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশেও। কথা হয়েছিল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট রেহনুমা করিমের সঙ্গে। তিনি জানালেন তাদের পথযাত্রা সম্পর্কে। মূলত ২০১৭ সালে বাংলাদেশে কাজ শুরু করে ‘হিরোজ ফর অল’। ফাইন্ড ইয়র এলিম্যান্ট নামক ওয়ার্কসপের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজ। তারা তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের জীবনের অর্থ খুঁজে বের করা, নিজেদের স্কিল অনুযায়ী গাইডলাইন দেওয়ার কাজ করে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিজ্ঞ মেন্টরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দেন তাদের। তারা কাজ করছেন মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার হয়রানি সহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে। তারা সিপিআর সহ প্রাথমিক চিকিত্সার শিক্ষা প্রদানের জন্য কাজ করছেন। বর্তমানে দেশে তাদের কার্যকরী সদস্য ১০ জন, স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা প্রায় ২০০। নিউ ইয়র্কে তাদের সদস্য ৪ জন এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রায় ১০০ জন।
২০১৭ সালে তারা ক্রস কালচারাল ডায়লগ অন উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট নামে একটি অনুষ্ঠান করেন। যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা উপস্থিত থাকেন। তারা কে এই বিষয়ে কী ভাবছেন তা নিয়ে আলোচনা করেন।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ক্যাম্পাবিলিটি বিডি নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তারা। যেখানে ৪ দিন ধরেন ৪০ জন অন্ধ শিশুর সঙ্গে সময় কাটান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষার্থী। এই আয়োজনে তাদের সঙ্গে ছিলেন এসিস্ট্যান্ট ফর ব্লাইন্ড চিলড্রেন-এবিসি। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়াড় মাশরাফি ও মুশফিক।
একই বছর তারা নিউ ইয়র্ক ও ঢাকার তরুণদের একসঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে একটি শেয়ারিং ইভেন্ট আয়োজন করেন। ২০১৯ সালে তারা গুলশান সোসাইটির সহযোগিতায় আয়োজন করেন অভূতপূর্ব এক উত্সবের, যার নাম দেন ‘পাড়া উত্সব’। গুলশানের ৬০, ৬২ ও ৬৫ নম্বর রোডে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় এই উত্সব। সেদিন সারাদিন সবাইকে নামিয়ে নিয়ে আসা হয়— একদিন প্রযুক্তি যান্ত্রিকতার বাইরে এক দারুণ পৃথিবীতে। যেখানে সবাই সবাইকে চিনেছে, ক্রিকেট খেলেছে, ক্যারম খেলেছে, দেয়ালে আঁকাআঁকি করেছে, শিশুরা খেলাধুলা করেছে, কুতকুত খেলেছে আর সবাই মিলে বায়োস্কোপ দেখেছে। তারা ইচ্ছে প্রকাশ করে—সকল পাড়ায়ই যেন এমন আয়োজন করা হয়।
আশুলিয়ায় তারা হাতে নিয়েছে দারুণ আরেকটি প্রজেক্ট। এসিড আক্রান্ত এক নারী একটি স্কুল তৈরি করে। বিভিন্ন সমস্যায় সেই স্কুলের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। ‘হিরোজ ফর অল’ সেই স্কুলকে নিজেদের হাতে নেয়। সেখানে তারা শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য দক্ষতা, মানবিকতা, হস্তশিল্প, মাদকের ভয়াবহতা, কম্পিউটার শিক্ষা দিতে চায়। পাশাপাশি বড়দের জন্যও থাকছে সান্ধ্যকালীন পাঠদান কার্যক্রম।
সকলেই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হবে, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরো বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিযুক্ত হবে এমন আশা হিরোজ ফর অলের। ভবিষ্যতে স্কুল-কলেজে সিপিআর ট্রেনিং আয়োজন করতে চান তারা। এতে করে নিজের প্রতিবেশীদের চিনবে সবাই। এমন আয়োজন হবে প্রতি পাড়ায়, নাম হবে—আমার পাড়া আমার চোখে। পাড়াতে যুবকদের দল থাকবে ভালো কাজ করার জন্য, থাকবে সাংস্কৃতিক দলও।
হিরোজ ফর অল ‘ওয়ারিয়র্স অফ চেইঞ্জ’ হিসেবে তরুণদের সচেতন বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
