করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতি

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ২১:৫৬

সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের খবরে বিভিন্ন স্থানে এর প্রভাব পড়েছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে পাঁচ হাসপাতালে ৩৫০ শয্যা প্রস্তুত

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীর পাঁচটি হাসপাতালে ৩৫০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনী ওষুধ, চিকিত্সক ও নার্স রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আসা কারো এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে পাঠাতে বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ঢাকায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হবে বলে জানান চিকিত্সকরা। ৩৫০ বেডের মধ্যে সীতাকুন্ডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ৫০টি বেড, বন্দর হাসপাতালে ৫০ বেড, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ বেড, মেমন হাসপাতালে ১০০ বেড, রেলওয়ে হাসপাতালে ৫০ বেড রয়েছে। বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, ২৪ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালের দুটি কক্ষে আইসোলেটেড ইউনিট খোলা হয়েছে।

রাজশাহীর তিন স্টেডিয়ামকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ঘোষণা

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের স্থানীয় তিনটি স্টেডিয়ামে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এছাড়া এ ভাইরাসে নিশ্চিত আক্রান্ত হওয়া রোগীদের ইনফেকশন ডিজিস (আইডি) হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হবে। কোয়ারেন্টাইনের স্টেডিয়াম তিনটি হলো- সপুরায় অবস্থিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়াম, তেরোখাদিয়ায় অবস্থিত শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্টেডিয়াম এবং মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্টেডিয়াম।

নারায়ণগঞ্জে আইসোলেশন ইউনিটের কাজ শুরু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এছাড়া হট লাইন স্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীর পর নারায়ণগঞ্জে প্রথম আইসোলেশন ইউনিট চালু হলো। শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৫ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার পাঁচটি উপজেলা সরকারি হাসপাতালে পাঁচটি করে বেড রাখা হয়েছে। শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় চালু করা হয়েছে ৫০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, ইতালি ফেরত ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়া ২০-২৫ জনকে পর্যবেক্ষন রাখা হয়েছে।

বগুড়ায় দুই হাসপাতালে ১৯ শয্যা

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ১৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি ওয়ার্ড, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঁচটি বেড সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মনিটরিং সেলসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফেনীর ছয় উপজেলায় ৬৫ আইসোলেশন কর্নার

ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনী সদরসহ ছয় উপজেলায় ৬৫ আইসোলেশন কর্নার প্রস্তুত করা হয়েছে বলে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান।  তিনি জানান, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২০ শয্যা, মহিপাল ট্রমা সেন্টারে ৩০ শয্যা ছাড়াও সোনাগাজী, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও দাগনভূঁঞা উপজেলায় তিনটি করে মোট ৬৫টি আইসোলেশন কর্নার প্রস্তুক রাখা হয়েছে।

রাঙ্গামাটিতে আইসোলেশন ইউনিটে ১৫০ শয্যা

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে ১৫০ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরেই রাখা হয়েছে আইসোলেটেড ১০০ বেড। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এই দুইটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত এই বেডগুলো তৈরি করে রেখেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ।

দিনাজপুরে প্রস্তুত ৯৫ শয্যা 

দিনাজপুরের স্টাফ রিপোর্টর জানান, জেলার হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯৫টি বিশেষায়িত শয্যা। এরমধ্যে কাহারোল উপজেলায় ২৫ শয্যাবিশিষ্ট একটি নবনির্মিত হাসপাতালও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রংপুর শিশু হাসপাতালকে কোয়ারেন্টাইন স্থান ঘোষণা

রংপুরের স্টাফ রিপোর্টার জানান, রংপুর শিশু হাসপাতালকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের জন্য কোয়ারেন্টাইন স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ১২ সদস্যের মেডিক্যাল টিমকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।