ওয়েবসাইট কেন হালনাগাদ নহে!

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ২২:০০

বর্তমান সরকার ডিজিটালাইজড বাংলাদেশ গড়িয়া তুলিতে সর্বাত্মক গুরুত্বারোপ করিয়াছে। ইহার অংশ হিসাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী চারটি স্তম্ভ নির্ধারণ করা হইয়াছে। এইগুলি হইল মানবসম্পদ উন্নয়ন, ইন্টারনেট সংযোগ,   ই-গভর্ন্যান্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প খাত গড়িয়া তোলা। ইহার মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হইল ই-গভর্ন্যান্স। ই-গভর্ন্যান্স হইল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া সরকারি সেবা সমাজের সকল স্তরে পৌঁছাইয়া দেওয়া। ইহা যে সরকারের একটি সময়োপযোগী ও সদিচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ তাহা বলিতে কোনো দ্বিধা নাই। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে সমাজজীবনের সকল ক্ষেত্রেই ইহার ইতিবাচক প্রভাব পড়িতেছে। ইহার ফলে মানুষ তথ্যসমৃদ্ধ হইতেছে এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কেও সচেতনতা পূর্বের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পাইয়াছে; কিন্তু কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা ও উচ্চ পদে দায়িত্বশীলদের কারণে এই ব্যবস্থার পুরোপুরি সুবিধা হইতে দেশের জনগণ বঞ্চিত হইতেছে। আমরা লক্ষ করি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটগুলিতে তথ্য হালনাগাদ নাই। এমনকি কিছু কিছু ওয়েবসাইট বত্সরের পর বত্সর মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা ধরিয়া দেখিয়াছেন বলিয়াও মনে হয় না। খোঁজ লইয়া জানা গিয়াছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই তথ্য হালনাগাদ করিবার জন্য নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তার অস্তিত্ব নাই। ইহা কি ডিজিটালাইজড বাংলাদেশের একটি দুর্বলতা নহে?

সরকারের কিছু ক্লাসিফায়েড তথ্য থাকিতে পারে, যাহা রাষ্ট্রের স্বার্থে, সরকারের বিভিন্ন প্রয়োজনে গোপন রাখিতে হয়। ইহা পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই গোপন থাকে। উহা লইয়া আমাদের কোনো বক্তব্য নাই; কিন্তু ডিক্লাসিফায়েড এবং অতি সাধারণ তথ্য কেন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাইবে না? অথচ প্রত্যেকটি কার্যালয় হইতে মৌলিক তথ্য দ্রুত পাইবার জন্য ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হইয়াছে। এই কাজটি যদি সঠিকভাবে করা হইত তাহা হইলে একদিকে যেমন ডিজিটালাইজেশনের ফল মানুষ ভোগ করিতে পারিত, অন্যদিকে সরকারও প্রশংসিত হইত। ই-গভর্ন্যান্স সঠিকভাবে যেই সকল দেশ করিতে পারিয়াছে সেই সকল দেশে দেখা গিয়াছে, সরকার ও জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিবিড় হইয়াছে, দক্ষ আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হইয়াছে। অথচ জনগণ যে তথ্য হইতে বঞ্চিত হইতেছে তাহা তথ্য আইনের পরিপন্থি, যাহা বর্তমান সরকারপ্রধান প্রথম দফায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসিয়াই তথ্য অধিকার আইনের বিষয়ে জোর দিয়াছিল। ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হইয়াছে, ‘এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোনো নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধিত থাকিবে।’ আর ডিজিটালাইজেশনের উদ্দেশ্যও ছিল এই কর্মকাণ্ডকে সহজতর ও দ্রুত করা। এই সকল নিয়মকানুন যাহারা মানিতেছে না, তাহাদের বিরুদ্ধে নিয়মকানুনের বাহিরে গিয়া ব্যবস্থা লওয়া ছাড়া উপায় নাই বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে। আমরা আশা করিব, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করিবে।