জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক রূপান্তর!

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ২২:০৪

গতকাল ১০ মার্চ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ সেসনের নবীন শিক্ষার্থীদের (৪৯তম আবর্তনের) ক্লাস শুরু হয়েছে। এখানকার প্রতিটি হল কর্তৃপক্ষ মাত্র একদিন আগে হলে সিট সংকটের কারণ দেখিয়ে হলে সিট না দেওয়ার কথা জানিয়ে নোটিশ দিয়েছেন। নানা জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এসে যখন জানতে পারে হলে তাদের কোনো স্থান নেই, তখন বিষয়টি মহা দুশ্চিন্তার। সারাদিন বা সারারাত জার্নি করে এসে এ অবস্থায় কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্তত ১৫ বা ৩০ দিন আগেও নোটিশ দিলে তারা কোথাও না কোথাও একটা ব্যবস্থা করে ফেলত। ফলে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নের যাত্রার প্রস্তুতির পরিবর্তে দুঃস্বপ্নে নিমজ্জিত হবে, তা বলাই বাহুল্য।   

কেন এই সিট সংকট? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্বিবদ্যালয়। হলের সিট সংখ্যার সমান সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে তীব্র আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো  প্রশাসনের নির্লিপ্ততা, যথাসময়ে ক্লাশ-পরীক্ষা শেষ না করে সেসন জট সৃষ্টি ও ছাত্ররাজনীতির নামে ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ানো। ৪৪তম ব্যাচ মাস্টার্স শেষ করে হল ছেড়ে দেবে আর ৪৯তম ব্যাচ হলে সিট  নেবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,  ৪৪ তো দূরের কথা কোনো কোনো বিভাগে ৪৩ ব্যাচের মাস্টার্সই শেষ হয়নি। অন্যান্য বছর নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গণরুমের ব্যবস্থা করা হলেও এবার সেটি হচ্ছে না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তারা এই দায়িত্ব কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না।              

আদীব আরিফ

মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,

সাভার, ঢাকা