বর্তমানে মাদকের সঙ্গে জুয়াও একধরনের মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ মরণফাঁদে জড়িত অধিকাংশই উঠতি বয়সের যুবক। বিভিন্ন ক্রিকেট লীগ যথা আইপিএল, বিপিএল, বিগ ব্যাশ চালু হওয়ার পর এর পরিধি অনেকাংশে বেড়েছে। বর্তমানে এসব খেলাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর। আসরগুলোতে প্রতিটি বলে, রানে, উইকেটে বাজি ধরা হচ্ছে। এখানে কেউ শুধু বাজি ধরে ক্ষান্ত থাকেন না, তিনি আবার বাজি ধরিয়ে দেন পার্সেন্ট হিসেবে। ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী যারা বাজি ধরছে, তাদের আর্থিক সংস্থানটা আসছে কোথা থেকে? যারা এ জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা বেশিরভাগ ছাত্র। নিজের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের জন্য পরিবার থেকে তারা নানা কৌশলে টাকা আদায় করে থাকে। যারা পরিবার থেকে টাকা নিতে পারছে না তারা নানা ধরনের সামাজিক অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। সময়মতো টাকা দিতে না পারলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জুয়ার আসরগুলোকে লিড দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দোকানি। বিনিময়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে তারা। এক সময় শুধু শহরকেন্দ্রিক হলেও বর্তমানে তা গ্রামে-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ছে। যুবসমাজ হচ্ছে ভবিষ্যত্ বাংলাদেশের কাণ্ডারী। তাই সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জুয়ার আসরগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এহেন মরণফাঁদে যাতে কেউ জড়িত না হয়, সেজন্য অভিভাবকদের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি।
মো. মশিউর রহমান সাইদ
অফিস সহকারী,
ফেনী সাউথ-ইস্ট কলেজ, ফেনী
