কৃষি প্রধান বাংলাদেশে অধিকাংশ ফসলই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। কৃষকরা লোকসান এড়াতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও কীটনাশক ব্যবহার করেন যা পরিবেশ ও মানুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাঙ্গি ও তরমুজ অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় ফসল। তবে এ জাতীয় ফসল চাষাবাদ করে ভালো ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে ফল পচনকারী রোগ একটি বড়ো বাধা। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ফল পচনকারী এ রোগটি ফসলের ফলন ও গুণগত মান কমিয়ে দেয় ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। ফল পচনকারী এ রোগের সহনশীল জাত বাছাইয়ের আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনহেরিটেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব মলিকিউলার মারকারস লিঙ্কড টু ব্যাকটেরিয়াল ফ্রুট ব্লচ রেজিস্ট্যান্স ইন মেলন’। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সুনচন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে তার পিএইচডির বিষয়বস্তু হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে গবেষণা করেন যা তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং আরো একটিতে পাঠানো করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘অ্যাসিডোভোরাক্স সাইট্রুলি’ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বাঙ্গি ফল পচনকারী রোগ হয়। এই ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্তকরণের জন্য গবেষণা করে তিন সেট মলিকিউলার মারকার ডেভেলপ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের ক্ষতি থেকে আগাম রক্ষা পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়ার দুইটি স্ট্রেইনকে ক্লোনিং এবং সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘ইউনিভার্সাল ডাটাবেস এনসিবিআই’ এ সাবমিট করা হয়েছে। বাঙ্গির ৩৫টি এবং তরমুজের ৭৭টি ইনব্রিড লাইন এই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ইনুকিউলেশন করে ফল পচনকারী রোগ সহনশীল বাঙ্গির ছয়টি এবং তরমুজের চারটি ইনব্রিড লাইন শনাক্ত করা হয়েছে।’
