কৃষি যান্ত্রিকীকরণ

ভর্তুকির জন্য ১০০ কোটি টাকা পেয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ২২:১৫

কৃষিতে শ্রমিকের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি যন্ত্রপাতির গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে। কৃষি যন্ত্রপাতি সাধারণ কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজন হয় ভর্তুকির। জানা গেছে, ভর্তুকির জন্য চলতি অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪০০ কোটি টাকা চেয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। এর বিপরীতে অনুমোদন করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ৪০০ কোটি টাকা চেয়ে একটি চিঠি পাঠান অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে। পরবর্তী সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। নীতিমালা না থাকায় পরে কৃষি মন্ত্রণালয় খসড়া নীতিমালা সংযুক্ত করে অর্থ ও মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠান কৃষিসচিব। সেটি মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করলে পরে অর্থ মন্ত্রণালয় ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ ছাড় করে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষিব্যবস্থাকে যান্ত্রিকীকরণ করতে চায় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা ৪০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের আগে থেকেই মাঠ পর্যায়ে চাহিদা নিরূপণ শুরু করেছি। খুব শিগগির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। মন্ত্রণালয় থেকে ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি অনুমতি পেয়েছি। তবে বরাদ্দ যা পেয়েছি, তার চেয়ে হয়তো আরো বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে।  মাঠ পর্যায়ে যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, সেগুলো মেটানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কেননা, বরাদ্দকৃত অর্থ আমরা খরচ করতে পারলে আরো বেশি বরাদ্দ পাব। ফলে ভর্তুকি সহায়তা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

এ বিষয়ে দ্য মেটাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাদিদ জামিল বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ব্যবস্থা সচল রাখার। বিভিন্ন মেয়াদে প্রকল্পের মাধ্যমে যে সহায়তা দেওয়া হতো, সেটি গত জুনে শেষ হয়েছে। কার্যত তখন থেকেই বন্ধ রয়েছে যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি কার্যক্রম। এরপর গত কয়েক মাস ধরেই সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা কৃষির যান্ত্রিকীরণের বিশাল সহায়তা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিচ্ছে। এতে কৃষক আবারও আগ্রহী হচ্ছেন যন্ত্র কেনায়। তারা অপেক্ষা করছেন কবে থেকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।’

জানা গেছে, ট্রাক্টর ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার এবং পাওয়ার টিলার ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যবহূত হয় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এই যন্ত্রের চাহিদা রয়েছে ১ লাখের বেশি। কিন্তু দেশে ব্যবহূত হচ্ছে ১ হাজারের কম। আর ধান রোপণের জন্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের প্রয়োজন ২ লাখ। দেশে এ যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে ১ হাজারেরও কম। শুধু ধান কাটার যন্ত্র রিপারের চাহিদা ১ লাখ। দেশে এ যন্ত্র রয়েছে ৫ হাজার। আর ধান বোনার জন্য পিটিও সিডার আছে মাত্র আড়াই হাজার। দেশে এই যন্ত্রের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ। একটি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের দাম ২৫-৩০ লাখ টাকার মধ্যে। বপন ও কর্তনযন্ত্রের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের জন্য ক্রয় কষ্টসাধ্য। সরকার ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।