মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মাতারবাড়ীতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে জাইকার ঋণ ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ২৪ হাজার ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৫ হাজার ৭৪৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা খরচ করা হবে। মাতারবাড়ী বন্দর নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শিশু শীর্ষেন্দুকে দেওয়া কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী
সভায় ১ হাজার ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস পায়রা নদীতে সেতু চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লিখেছিল। প্রধানমন্ত্রী সেই চিঠির জবাবও দেন। সে সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন সেতু নির্মাণ করা হবে। গতকাল সেই সেতু নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ৪১৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে লেবুখালী-রামপুর-মির্জাগঞ্জ সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ৫১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেস (এসএসএফ) ফায়ারিং রেঞ্জের আধুনিকায়ন প্রকল্প, ১১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মত্স্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, ১৬১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বছরব্যাপী ফল উত্পাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ৫৮৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলাধীন পাকেরদহ ও বালিজুরী এবং বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন জামথল এলাকায় যমুনার ভাঙন রক্ষা প্রকল্প, ১০২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা কার্যালয়ের ২টি বেজমেন্টসহ ১০ তলা (সংশোধিত ২০ তলা) প্রধান কার্যালয় নির্মাণ কাজ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্যানিটেশনের প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে।
