শংকর নেত্রালয়

চোখের রোগীর আশা-ভরসা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ০০:৫১

১৯৭৮ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে শুরু হয়েছিল হাসপাতালটির যাত্রা। মাত্র চার দশক পরে এখন তার সুনাম ভারতের গণ্ডি ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা দেশে। তার নাম শংকর নেত্রালয়। চোখের জটিল অপারেশনের জন্য হাসপাতালটির রয়েছে বেশ সুখ্যাতি। খ্যাতির রেশ এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশেও। প্রতিবছর বাংলাদেশের ৫৬ হাজার রোগী আসে চিকিত্সা নিতে। মানুষ ভালোবেসে শংকর নেত্রালয়কে বলে ‘চোখের মন্দির’। ড. এস এস বদ্রিনাথ মানব সেবায় নিয়োজিত এই হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতা। যা গড়ে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতায়।

সাধারণ মানুষ চিকিত্সার কথা জানলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এর মূল কাজ গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম। শংকর নেত্রালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিরেক্টর ড. গিরিশ শিবা রাও জানালেন, বর্তমানে ভারতের প্রতি ১২ জন চোখের চিকিত্সকের এক জন শংকর নেত্রালয় থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শুধু ভারতেই নয়, শংকর নেত্রালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশেও চোখের চিকিত্সকদের নিয়ে কর্মশালা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ের মূল ক্যাম্পাসে পরিদর্শনে গেলে কর্তৃপক্ষ এসব কথা বলেন।

ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ‘ফ্যামিলিয়ারাইজেশন প্রোগ্রাম’ এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ২০ জনের একটি সাংবাদিক দল ভারত সফর করছেন। এ সফরের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে ভারতের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা, সংস্কৃতি খাতের সঙ্গে পরিচিত করা এবং এসব খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। এরই অংশ হিসেবে সাংবাদিক দলটি শংকর নেত্রালয়ে যায়।

হাসপাতালে বাংলাদেশি এক রোগীর দেখা হয়। চট্টগ্রামের সদর আলী তার ভাইয়ের ছেলে ইমতিয়াজকে নিয়ে এ হাসপাতালে চোখের অপারেশন করাতে এসেছেন। তিনি জানালেন, ফুটবল খেলতে গিয়ে চোখে গুরুতর আঘাত পান ইমতিয়াজ। চিকিত্সা নিতে দেরি হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে এই চিকিত্সা করানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে, তিনি চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে আসেন। এখন একটি চোখের অপারেশন সফল হয়েছে। অপর চোখটির অপারেশন হবে খুব শিগিগর। হাসপাতালের চিকিত্সকরা বলেছেন, ইমতিয়াজ তার দৃষ্টি ফিরে পাবে।

এ হাসপাতালের বিশেষ চিকিত্সক ড. পার্থপ্রতীম মজুমদার বললেন, বাংলাদেশেও চোখের চিকিত্সার মান এখন অনেক ভালো। যদিও জটিল চোখের অপারেশন ভারতের মতোই বাংলাদেশেও সব হাসপাতালে করানো সম্ভব হয় না। তিনি জানান, যেসব বিদেশি রোগী এখানে চিকিত্সা নিতে আসেন শতাংশের হিসেবে বাংলাদেশি শতকরা ৬০ শতাংশ। আর প্রতিবছর এ সংখ্যা ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে বাড়ছে।

ডা. গিরিশ রাও বলেন, চিকিত্সা দেওয়া আমাদের কাছে সেবা। এটা আমাদের আয়ের পথ নয়। চোখের চিকিত্সা কীভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায় আমরা সবসময় সেই চেষ্টাই করছি। এখানে কর্নিয়া, গ্লুকোমা, রেটিনাসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল অপারেশন করা হয়। বর্তমানে এ হাসপাতালে ১ হাজার কর্মী রয়েছেন। যারা প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ রোগীকে সেবা দিয়ে থাকেন। আর এ হাসপাতালে দৈনিক ১০০টি অপারেশন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ভারতে যাদের মাসিক আয় ১২ হাজার রুপির কম তাদের এখানে বিনামূল্যে চোখের চিকিত্সা দেওয়া হয়ে থাকে। কলকাতাসহ দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে এখন শংকর নেত্রালয়ের আটটি শাখা রয়েছে।