বসুন্ধরা কিংস ৫ : ১ টিসি স্পোর্টস
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
সত্তর, আশি কিংবা নব্বই দশক পর্যন্ত ক্লাব ফুটবলে কত বিদেশি ঢাকার মাঠে খেলে গেছেন। চোখ বন্ধ করে অনেক নাম এখনো ফুটবলের পুরোনো দর্শক বলে দিতে পারেন। তবে আর্জেন্টাইন হার্নেন বারকোসের খেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বসুন্ধরা কিংসের জার্সি গায়ে এই ফুটবলার দেখিয়েছেন ফুটবলের শৈল্পিক কারুকাজ। হূদয়ে গেঁথে থাকার মতো খেলাটা মেলে ধরেছেন। বসুন্ধরা কিংস ৫-১ গোলে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। হ্যাটট্রিক করেছেন বারকোস। পাঁচ গোলের চার গোলই তার। ঢাকার মাঠে প্রথম খেলতে নেমেই এক ম্যাচে গোল করা চাট্টেখানি কথা না।
এএফসি কাপে হোম ম্যাচে বসুন্ধরা প্রথম ম্যাচ। এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে আগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। সব ফোকাস ছিল বারকোসের ওপর। এই ফুটবলার আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির পাশেই চারটি ম্যাচ খেলেছেন। বারকোসের কথা বলতে গেলে মেসিকে আনতে হয়। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগ পর্যন্ত বারকোস ছিল মেসির সতীর্থ। কিন্তু দিন শেষে বারকোসের পারফরম্যান্স মেসির কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। বারকোস নিজের নামের পাশ থেকে মেসির নামটা বিচ্ছিন্ন করে দিলেন নৈপুণ্যে, স্বমহিমায়। পায়ে কিংবা মাথায় ফুটবলের একেকটা টাচ্ জাদুর মতো। ক্লাসিক ফুটবল যাকে বলে, বারকোস সেই ক্লাসিক ফুটবলই খেললেন। স্টেডিয়ামের দর্শক কিংবা প্রেসবক্স সবার চোখ ছিল বারকোস কি করে তা দেখার অপেক্ষায়। মেসির সঙ্গে খেলেছেন এমন ফুটবলার ঢাকার মাঠে জাদু দেখাবেন সেটাই স্বাভাবিক। ঢাকায় আসার আগেই বারকোস বসুন্ধরার কোচ অস্কার ব্রুজনকে ফোনে জানিয়ে ছিলেন দুই উইং দিয়ে বক্সে বল ফেলতে পারলে বাকি দায়িত্ব বারকোসের। সেটাই হয়েছে। টানা তিন গোল করে হ্যাটট্রিক করেছেন। চতুর্থ গোলও করেছেন এই ফুটবলার।
বারকোস জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক। যারা স্টেডিয়ামে যেতে পারেননি তারা মিস করেছেন। ঢাকার মাঠে অনেক দিন এমন ফুটবল খেলা উপভোগ করার সুযোগ আসেনি।
বসুন্ধরা কিংস এবং টিসি স্পোর্টস ফুটবল ম্যাচ রিপোর্টের চিত্রনাট্য লিখতে হলে বারকোসের নামই আসে বার বার। তাছাড়া এতদিন কোস্টারিকার কলিন্দ্রেসের কথাই বেশি এসেছে। কাল বারকোসকে পেয়ে কলিন্দ্রেসও জাত চেনালেন। সমমানের না হলেও দুজনের মধ্যে কেমিস্ট্রি ছিল অসাধারণ। আক্রমণভাগে বারকোস আর কলিন্দ্রেসের সঙ্গে মাঝে মাঝে বিশ্বনাথ এবং বিপলু দারুণ যোগান দিয়েছেন। মাঝমাঠ খুব একটা দুর্বল না হলেও তপু, ইয়াসিনের রক্ষণভাগ ভুগিয়েছে বসুন্ধরাকে।
বারকোসের নায়কোচিত দর্শনের দিনে আরো এক জন ছিলেন বসুন্ধরার নায়ক। তিনি গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। ম্যাচে পেনাল্টি হয়েছিল। তিন বার পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন জিকো। ১৮ মিনিটে বারকোসের থেকে বল পেয়ে বিপলুর শট টিসির সাকিব হানিফ ফ্লাই করেন ফেরালে কলিন্দ্রেস ক্রস করেন, বারকোস মাথা লাগালেন ১-০। দেখার মতো গোল। তিন মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি থেকে গোল ফেরায় টিসি স্পোর্টস। ইয়াসিন ফেলে দিয়েছেন আলী আশফাককে। পেনাল্টির নির্দেশ দেন অস্ট্রেলিয়ান রেফারি শন ইভান্স। গোলকিপার জিকো টিসির ইসা ইসমাইলের শট ঠেকিয়ে দিলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় গোল করেন ইসা ১-১। এরপরই বারকোস এবং কলিন্দ্রেস ঝড় দেখেছেন মালদ্বীপের ফুটবলাররা। ২৬ মিনিটেই বিপলুর ক্রস বারকোস মাথা লাগালেন ২-১। দ্বিতীয়ার্ধে আবার টিসি স্পোর্টস পেনাল্টি পায়। প্রথম ধাপে ঠেকলেও নিয়ম না মানার কারণে রিকিক করলে আবার ঠেকিয়ে দেন জিকো। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বারকোস হ্যাটট্রিক করেন ৩-১। ৭৬ মিনিটে অধিনায়ক কলিন্দ্রেসও গোল করেন ৪-১। ইনজুরি টাইমে নিজের চতুর্থ গোল করেন বারকোস ৫-১।
