দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা বন্ধ হোক

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ২১:৪৫

সাইফুল ইসলাম হাফিজ

পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বিশ্ব যে এখন একটি কঠিন সময় পার করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিটি দেশের মানুষই এই ভাইরাস সম্পর্কে সজ্ঞান। বাংলাদেশেও আঘাত হেনেছে কভিড-১৯। বেশ কয়েক জনকে কোয়ারান্টাইনেও রাখা হয়েছে এবং চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছে মানুষকে শান্ত রাখার জন্য। চিকিত্সকরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন রোগীদের শুশ্রূষা করার জন্য। প্রশাসনের লোকজন জনগণকে সচেতন ও সতর্ক করতে বেশ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রায় সব শ্রেণি পেশার মানুষই কমবেশি শঙ্কায় ভুগছেন। যে যার মতো পারছেন সতর্কতা অবলম্ব্বনে মগ্ন। কেউ চিকিত্সালয়ে ভিড় করছেন, আবার কেউ প্রার্থনা বা অন্য উপায় খুঁজছেন। এই করোনা ভাইরাস নিয়ে মোটামুটি সবাই ই একটু-আধটু চিন্তিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আছে আমাদের সমাজে যারা সবসময়ই মাছরাঙা পাখির মতো সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। ‘একটি যদি পাই, ওমনি ধরে গাপুসগুপুস খাই’। একটু সুযোগ পেলেই দাম বাড়িয়ে দিবে। নিষ্ঠুর প্রয়োজনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জনসাধারণের পকেট থেকে টাকা নিয়ে যাওয়াই এদের লক্ষ্য। মানুষ যখন ঠেকে যায় তখন তারা আর সততা চেনে না, চেনে শুধু টাকা। করোনার আক্রমণ থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সবাই মাস্ক (মুখোশ) ব্যবহার করছেন। যখন তারা দেখল সবাই বেশি মাস্ক ব্যবহারে ঝুঁকছে তখনই তারা রাতারাতি এর দাম বাড়িয়ে দিল। ২০-৩০ টাকার একটা মাস্কের দাম ২০০-৩০০ টাকা, ১০ টাকার মাস্কের দাম ৮০ টাকা। মনে হয় এ যেন দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ ‘সময় দরকষাকষি করলে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, ‘নিলে নেন, না নিলে রেখে দেন’! যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারা কীভাবে ৩০০ টাকার মাস্ক ব্যবহার করবে? ভাবা যায়? কোন সমাজে বাস করি? আর কাদের সঙ্গে বাস করি? একটু হলেও কষ্ট লাগে, যখন দেখি অন্যান্য দেশে সচেতনতার জন্য মাস্কসহ বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করছে কিংবা একেবারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করছে, তখন আমার দেশে এই হাল! এদের মনে কোনো চিন্তা নেই, আছে টাকার ধান্দা। এই ক্রান্তিলগ্নে অসাধু লোকদের থামাতে কিংবা তাদের লাগামহীন, লোভনীয় ব্যবসা বন্ধ করতে সরকার নির্দেশনা দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। অনেকে শুধু দাম বেশি নিয়েই ক্ষান্ত হয় না, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলোও এই সুযোগে চালিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করে। আরো অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে তাদের এরূপ নগ্ন চিত্র দেখা যায়। কয়েকদিন আগেও পেঁয়াজ ও লবণের ক্ষেত্রে তারা অসাধুতার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তারা মানেনি। পেঁয়াজ পচে গেছে কিন্তু স্বল্প দামে মানুষকে খেতে দেয়নি। মনে প্রশ্ন জাগে যে, আসলে আমাদের বাঙালিদের মধ্যে এরূপ প্রবণতা কেন যে, রাত বেশি হয়েছে ভাড়া বেশি দিতে হবে, না দিলে যাব না। ঈদের সময় যাত্রী বেশি তাই ভাড়া দ্বিগুণ দিতে হবে। বৃষ্টি নামছে ভাড়া দ্বিগুণ দিতে হবে, না দিলে যাব না; রোজা আসলে তো কথা-ই নেই, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও দ্রব্যসামগ্রীর আকাশ ছোঁয়া দাম! বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। কোন জিনিসের বেশি চাহিদা বাড়লেই তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। যা সচরাচর নির্ধারিত মূল্যের ধারেকাছেও থাকে না। করোনা ভাইরাসের মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়েও তাদেরকে আইনের ভয় দেখিয়ে, জরিমানা করে বাজার ঠিক রাখতে হয়। আমাদের বেঁচে থাকা কি শুধুই টাকার জন্য? মানবতার কি কোনো মূল্য নেই? যারা ব্যবসা করেন, তারা অন্তত এই সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জন্য কিছু করুন। একেবারে বিনামূল্যে না দিলেও ক্রয়ক্ষমতাটা যেন জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে না যায় সে’ দিকে একটু দৃষ্টিপাত করুন। এক আতঙ্ক থেকে আরেক আতঙ্কের জন্ম না দিয়ে এ করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে যাতে সবাই রক্ষা পেতে পারে সে’ বিষয়ে আমাদের সবারই সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার। করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে অনেক পণ্যেরই দুষ্প্রাপ্যতা দেখা দিয়েছে। যার জন্য অনেক ব্যবসায়ীরাই দাম বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠছেন। এই পরিস্থিতিতে যেটা আদৌ কাম্য নয়।

n লেখক :শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়