এসডিজি অর্জনে অগ্রগতি হলেও স্বস্তিদায়ক নয়

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ২১:৫২

নাগরিক প্ল্যাটফরমের সম্মেলনে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে গত তিন বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন করেছে। কিন্তু এই অর্জন স্বস্তিদায়ক নয়। শিক্ষিত তরুণদের মাঝে উচ্চ বেকারত্ব, শোভন কর্মসংস্থানের অভাব, নারী-পুরুষ বৈষম্য, পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীদের নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফরমের উদ্যোগে ‘ভিএনআর ২০২০ অব বাংলাদেশ : পজিশনিং নন-স্টেট অ্যক্টর’ শিরোনামে আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়।

উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ইউএনডিপি আবাসিক সমন্বয়কারী সুদিপ্ত মুখার্জি, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, প্লান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলে মারফি প্রমুখ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর বাড়তি ৬৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বেশিরভাগ অর্থায়ন বেসরকারি খাত থেকে আসতে হবে।

রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে। সরকারের নীতিগুলোকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। নীতি প্রয়োগে আরো উন্নতভাবে আমলাতন্ত্রকে কাজ করতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রথম সমস্যা হলো উন্নত প্রশাসনিক প্রয়োগের অভাব, দ্বিতীয়ত সম্পদের সীমাবদ্ধতা, তৃতীয়ত অর্থায়ন। শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসতে হবে। সুদিপ্ত মুখার্জি বলেন, আমরা কারিগরি শিক্ষার কথা বলছি, কিন্তু মানসম্পন্ন শিক্ষাও দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সেটি গুণগত মানসম্পন্ন হলে আরো ভালো ফল পাওয়া যেত। প্লান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলে মারফি বলেন, জেন্ডার সমতায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বাল্যবিবাহ এখনো বড়ো সমস্যা। এদেশে ১০ শতাংশ মা হওয়ার বয়স ১৫ বছরের নিচে।