চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বন্দর নগরী। গত সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়াও অন্য প্রার্থীরা বেশ জোরেশোরেই ভোটের প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী গতকাল দক্ষিণ পতেঙ্গা, উত্তর পতেঙ্গা, দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন দক্ষিণ পাহাড়তলী, জালালাবাদ ও পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে জনসংযোগ করেন। এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন দুই-তিনটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করব আমি। ভোটারদের উদ্দেশে আমি বলছি—সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে নৌকায় ভোট দিন। তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিমধ্যে নৌকার সমর্থনে সভা করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রচারণায় নেমেছে। প্রগতিশীল পেশাজীবী সংগঠনগুলোও নৌকার পক্ষে ব্যাপক কাজ করছে।
এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্সবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা রয়েছে দুই বড়ো শিবিরেই। আওয়ামী লীগের বড়ো উদ্বেগের কারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো ভোটের মাঠে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের শত অনুরোধ ও চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীর সমস্যা থাকলেও বিএনপির আশঙ্কা অন্যখানে। তারা মনে করছে চসিক নির্বাচনে সব প্রার্থীকে সমান চোখে দেখবে না নির্বাচন কমিশন। অতীতের মতো এই নির্বাচনেও ইসি বিতর্কিত ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বাড়তি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে বলে বিএনপি মনে করছে। এর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হতে ভয় পাবে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সব আশঙ্কা অমূলক উল্লেখ করে চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীতে উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এটা বেশ আশার কথা। তবে সরকারি দলের প্রার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে একই সুযোগ-সুবিধা অন্যরা পাচ্ছে না। এটাই আমাদের জন্য বড়ো উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে নিরুত্সাহিত হতে পারে। ডা. শাহাদাত বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি বুথে সেনা মোতায়েন, জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশসহ মোট পাঁচটি শর্ত আমরা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এখনো এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা মনে করি পাঁচটি শর্ত পূরণ হলে নির্বাচন আরো সুন্দর হবে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, দুয়েকজন যারা এখনো আছেন তারা সময়মতো দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন।
বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক নছরুল কাদির ইত্তেফাককে বলেন, চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী মন্ত্রী, মেয়র, এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে যা আচরণ বিধির লঙ্ঘন।
