করোনা ভাইরাস

আক্রান্ত তিন জনের দুই জন সুস্থ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ২২:১৭

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিন জন রোগীর মধ্যে দুই জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের যে কোনো সময় হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গতকাল বুধবার দুপুরে আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সুখবর দিয়ে বলেন, ‘আক্রান্ত তিন জনের অবস্থাই এখন ভালো। এর মধ্যে দুই জন একেবারেই সুস্থ। তাদের ব্লাড পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়া গেছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী পর পর দুটি পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ না আসলে তাদের পুরোপুরি সুস্থ বলা যাবে না। তাই আমরা এখনই তাদের ছাড়ছি না। তাঁদের আবার পরীক্ষা করা হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এ ব্যাপারে অবহিত করে শিগিগরই দুজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হবে।’

অধ্যাপক ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, আক্রান্ত তিন জনের শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা ছিল না। তারা সুস্থ আছেন। তাদের সংক্রমণ মৃদু। তাদের বাড়িতে রেখেই চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু যেহেতু তারা আমাদের প্রথম রোগী, তাই তাদের হাসপাতালে এনে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের তিন জনের একজনের শরীরে এখনো ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে তিনিও ভালো আছেন। তার চিকিত্সা চলছে।’ রবিবার বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিন জন শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ সম্প্রতি ইতালির দুটি শহর থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে একজনের সংস্পর্শে এসে পরিবারের আরেক নারী সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর নতুন করে দুটি শব্দ সামনে এসেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘কোয়ারান্টিন’; আর আরেকটি হচ্ছে ‘আইসোলেশন’। যেসব ব্যক্তিকে আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মনে হয়, কিন্তু সে সুস্থ হতে আবার নাও পারে, তার মধ্যে হয়তো জীবাণু আছে কিন্তু তার মধ্যে কোন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়নি—এমন ব্যক্তিদের কোয়ারান্টিনে রাখা হয়। অর্থাত্ যারা এখনো অসুস্থ না এবং যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদেরকে কোয়ারান্টিনে রাখা হয়। আইসোলেশন হচ্ছে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকবে তখন তাকে আলাদা করে যে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হবে তাকে বলা হয় আইসোলেশন। সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আর কোয়ারান্টিন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য। দেশে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট আট জনকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক বলেন, আইইডিসিআরের হটলাইনে তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ২২৫টি কল পেয়েছেন, তার মধ্যে ৩ হাজার ১৪৫টি কল ছিল করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত। এই সময়ে মোট ২৪ জন আইইডিসিআরে গিয়ে সেবা নিয়েছেন এবং মোট ১০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪২টি নমুনা পরীক্ষা করে ঐ তিন জন ছাড়া আর কারও মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েনি। দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে পাঁচ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালিতে এর আগে দুজনের মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল। তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের চার জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন জানিয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘যার অবস্থা ক্রিটিকাল ছিল, তা অপরিবর্তিত রয়েছে।’

করোনা ভাইরাসের তথ্যসেবা পেতে হটলাইনে ১৩টি নম্বর যুক্ত আছে। ১৩টি নম্বরের মধ্যে একই নম্বরে এক সঙ্গে অনেকে কল করেন। এতে সংযোগ পেতে সময় লাগে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হান্টিং নম্বর ০১৯৪৪৩৩৩২২২ চালু করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এখন থেকে এই নম্বরে কল করলে হটলাইনের ১৩টি নম্বরের যে নম্বরটা ফাঁকা থাকবে, সেটাতে গিয়ে কল ঢুকবে। এর আগে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তথ্যসেবা পেতে এই হটলাইনে নতুন আটটি নম্বর চালু করে আইডিসিআর। এই আটটিসহ ১৩টি নম্বর হলো— ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫ এবং ১৬২৬৩। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ১৬২৬৩ নম্বরেও কল করে তথ্য সেবা পাওয়া যায়।