বাংলাদেশের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ :হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ২২:২২

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মুজিববর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল বুধবার নয়া দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারত সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এ কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধান মোদি ‘ভার্চুয়াল প্রেজেন্স’ এর মাধ্যমে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধু নিজ নিজ দেশের সুবিধা আদায় করা নয়। বরং দুই দেশ মিলে নিজেদের প্রয়োজনগুলো একসঙ্গে সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আলোচনা করে দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান করা হবে। এখানে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই। কারণ, ভারতের দিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের            মধ্যে বেশকিছু জটিল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং বেশকিছু পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সমাধানে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারণে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে বাংলাদেশে না এলেও তিনি অনুষ্ঠানের সঙ্গে যে যুক্ত থাকছেন তা নিশ্চিত করলেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব। শ্রিংলা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০০টি এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির স্মারক হিসাবে ৫০টি, মোট ১৫০ অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশকে উপহার দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশের সব জেলাতেই কাজ করবে। তিনি জানান, এসব কিছুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছর ভারত সফরে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল তারই অংশ। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, শুধু ঢাকা নয় চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে বেশকিছু প্রকল্পে সহায়তা দেবে ভারত। হয়তো মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর ঘোষণাও দিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এর পাশাপাশি ফেনী নদীর সীমান্ত ব্রিজও উদ্বোধন করা হতে পারে। এছাড়াও, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় তিনটি প্রকল্পে শতভাগ অনুদান দেওয়া হবে বলে জানান শ্রিংলা।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ক্রমান্বয়ে সব স্থলবন্দর দিয়ে ভার?তে যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরো সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, বর্তমা?নে সব আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট ছাড়াও, যশোরের বেনাপোল (ভারতের হরিদাসপুর), চুয়াডাঙ্গার দর্শনা (ভারতের গেদে) স্থলবন্দর দিয়ে ভিসায় উল্লেখ না থাকলেও আসা-যাওয়া করতে পারে বাংলাদেশি পর্যটকরা। খুব শিগগিরই সাতক্ষীরার ভোমড়া (ভারতের গোজাডাঙ্গা) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া (ভারতের আগরতলা)  স্থলবন্দর দিয়েও ভিসায় উল্লেখ ছাড়াও যাতায়াত করা যাবে। এসংক্রান্ত ঘোষণাও খুব দ্রুতই আসবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে বাংলাদেশের নতুন কনস্যুলেট চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভারত সরকারের তরফেও যাবতীয় অনাপত্তি ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছে। এখন কবে থেকে কনসুলেট চালু করা হবে এটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, চিকিত্সার জন্য হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতিবছর চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়, সিএমসি হাসপাতাল ও অ্যাপোলো হাসপাতালে বাংলাদেশি চেন্নাইতে চিকিত্সার জন্য যান। তখন যে কোনো প্রয়োজনে তাদের দিল্লি­, মুম্বাই অথবা কলকাতার বাংলাদেশ মিশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই চেন্নাইতে একটি কনস্যুলেট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।