অপরাধ সংঘটনের দায়ে কোনো শিশুকে মোবাইল কোর্ট কর্তৃক কোনো ধরনের বিচার করা ও দণ্ড দেওয়া যাবে না মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, মোবাইল কোর্ট যদি শিশুদের দন্ড দেয়—তাহলে সেই দণ্ড সংবিধানের ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে সংরক্ষিত মৌলিক ও মানবাধিকারের লংঘন। কারণ কোনো শিশুকে দণ্ডদানের ক্ষমতা আইন মোবাইল কোর্টকে দেয়নি। একমাত্র শিশু আইনের অধীনে গঠিত শিশু আদালত কোনো অপরাধের জন্য কোনো শিশুকে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিচার ও দণ্ড দিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো আদালতের শিশুকে দণ্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। এ সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেন।
রায়ে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশে আসলে দুই ধরনের বিচার ব্যবস্থা চালু আছে। মোবাইল কোর্ট কর্তৃক পরিচালিত বিচার ব্যবস্থা স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সমান্তরালভাবে কাজ করছে। যা শুধু অসাংবিধানিকই নয়, গণতান্ত্রিক ন্যায়নীতি ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। মোবাইল কোর্ট কর্তৃক এভাবে শিশুদের দণ্ডদান চলতে থাকলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
রায়ে মোবাইল কোর্ট কর্তৃক ১২১ শিশুকে দেওয়া দণ্ড অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি বাতিল করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, আইনের বাইরে গিয়ে মোবাইল কোর্ট কোনোভাবেই শিশুদের বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারে না। তাই অন্য কোনো অপরাধে জড়িত না থাকে তাহলে ঐ ১২১ শিশুকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হলো। একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী আব্দুল হালিম ও ইশরাত হাসান।
ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫২ ধারায় বলা আছে শিশুরা যদি এই আইনে অপরাধ করে তাহলে সেই অপরাধের বিচার হবে শিশু আইনে। তাই র্যাবের তিন জন ম্যাজিস্ট্রেটের সাজা দেওয়ার কার্যক্রম অমানবিকই নয়, সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়।
