আমাদের প্রকৃতিবিমুখ মানসিকতা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ১৯:২০

আজকাল অনেক তত্ত্বকথাই শোনা যায়। তারসঙ্গে কিছু মুখরোচক কথাবার্তাও। যেমন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, দিন বদলের বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ—আরো কত কী! কিন্তু আমার কাছে এসব স্রেফ কথার কথা বলেই মনে হয়। যে পরিমাণ প্রচারণা চালানো হয়, ঠিক ততটা নয়। তবে পরিবর্তন কিছু যে একেবারেই হয়নি তা নয়। কিন্তু ঢাকঢোল পিটানোর মতো কিছু নয়। যেটুকু পরিবর্তন আমাদের হয়েছে তা নিতান্তই বাহ্যিক। স্বভাবগত দিক থেকে আমাদের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশ ও জাতিসত্তার কোনো গভীর স্পর্শ আমরা অনেকেই এখনো অনুভব করি না। আমাদের আপন ঐতিহ্যগুলো যে হারিয়ে যেতে বসেছে বা ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে তা নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই। ক্রমেই আমাদের বর্ষার মাঠগুলো বিভক্ত হতে হতে লোকালয় হয়ে উঠছে, হারিয়ে যাচ্ছে ঘরের আশপাশের পুরনো গাছগাছালি, উজাড় হচ্ছে বনভূমি, নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, সেইসঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও। আমাদের নতুন প্রজন্ম কোথায় মাছ হয়, জবা ফুল দেখতে কেমন, কখন পরবীয়া উত্সব হয়, কীভাবে গোল্লাছুট খেলতে হয়—এসব খবর একেবারেই জানে না। দোষটা কিন্তু তাদের না, আমাদেরই। আমরা প্রজাপতির পেছনে ছুটোছুটি করে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করেছি ওই সময়টুকু তারা এখন পড়ার কাজে ব্যয় করে। অবশ্য এসব নিয়ে আমাদের তেমন কোনো মাথাব্যথাও নেই। আমরা এখন যেন এক পাগলা ঘোড়ার সওয়ারি। কোথায় ছুটছি, জানি না। এই যে নিষ্ফল ছুটোছুটি তা থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে হয়তো কেউ কেউ ভাবছেন, সমাধানের পথও খুঁজছেন। তারা খুব ভালো করেই জানেন, আমাদের মূল সমস্যাটা কোথায়। কিন্তু তাদের কথা শুনছে কে। আমরা এমনই হতভাগ্য যে, সঠিক মানুষটির যথাযথ মূল্যায়ন আমরা করতে জানি না। বরং সমাজে তারা চরম গুরুত্বহীন ও অবহেলার পাত্র। যতদিন না আমরা সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় বসাতে পারছি ততদিন আমাদের অন্ধকারেই পথ হাতড়ে বেড়াতে হবে। প্রসঙ্গত নগর সৌন্দর্যায়ন বা বৃক্ষরোপণের কথা বলা যায়। শহরে যারা এই কাজটির সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেরই হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অনেক বেশি, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। চারপাশে একটু ভালোভাবে নজর দিলে বিষয়টি বেশ স্পস্ট হয়ে উঠবে। ঢাকার সড়ক বিভাজক ও পথপাশে যে ধরনের গাছপালা নির্বাচন করা হয়েছে তা রীতিমতো হাস্যকর। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, সড়ক বিভাজকের মতো সংক্ষিপ্ত পরিসরে বটগাছ লাগানো। একটি বটগাছ পরিণত বয়সে কতটা বড়ো হতে পারে এই ধারণাটুকু আমাদের অবশ্যই থাকা উচিত। বাঙালি হয়ে বটগাছ না চেনাটাও লজ্জাজনক।

এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কেউ কেউ মনে করেন গাছপালা নিয়ে এত হইচই কেন! গাছপালা নিয়ে লেখালেখি করে কী লাভ। আমরা যখন এসব নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে যাই তখন অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। কিছুদিন আগে একজন বৃক্ষপ্রেমিক জানালেন, ঢাকায় একটি ভিনদেশি ফলের সন্ধান মিলেছে। তিনি আমাকে ফলটি দেখে তার নাম-পরিচয় জানাতে অনুরোধ জানালেন। যথারীতি একদিন হাজির হলাম সেখানে। প্রধান ফটক পার হতেই বেশ বড়োসড় একটি গাছ চোখে পড়ল। গাছজুড়ে অসংখ্য ফল ঝুলছে। ফলটি আমাদের দেশে আগে কখনো দেখিনি। ছবি তুলতে চাইলে বাড়ির দারোয়ান বাধ সাধলেন। বললেন কর্তার নিষেধ। বললাম তার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই। আমার নামধাম জেনে নিয়ে দারোয়ান চলে গেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে এলেন তিনি। ভাবলেশহীন বিমর্ষ চেহারা। বললেন তিনি দেখা করবেন না। একথাও বললেন, এই গাছ নিয়ে তাকে আর কখনো যেন বিরক্ত না করা হয়। ভাবলাম মানুষ কী করে এমন হয়। একটা স্বাভাবিক সৌজন্যতাবোধও থাকবে না! তখন আমার দুজন বিদেশির কথা মনে পড়ল। তার একজন এখন আর বেঁচে নেই। তিনি লন্ডনের কিউ উদ্যানের কর্মী রবার্ট লুইস প্রাউডলক। ১৯০৮ সালে প্রথম ঢাকা শহরে পরিকল্পিত নিসর্গশোভা নির্মাণের জন্য ব্যাপক কাজ করেন। তার কাজটি তখন সমগ্র রমনা এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আরেকজন এখনো বেঁচে আছেন। তিনি নটর ডেম কলেজের শিক্ষক, ফাদার বেনাস। সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছি এই ভিনভাষী মানুষটি যখন তার ব্যাগ থেকে অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইটি বের করলেন তখন। এ দুজনই আমাদের গাছপালাকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবেসেছেন। অথচ আমরা নিজেরাই আমাদের গাছপালাগুলো ভালোবাসি না।

আমাদের ভোগবাদী স্বভাবটাও রীতিমতো দুঃখজনক। বাড়িতে যদি দুটি ফলগাছ, দুটি কাঠগাছ ও দুটি ফুল গাছ থাকে তাহলে ফলগাছই সবচেয়ে বেশি যত্ন পায়। কারণ তারসঙ্গে সরাসরি ভোগ করার বিষয়টি জড়িত। কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে আমাদের কাছে সব গাছই সমান হওয়া উচিত। বাড়ির যে গাছটি থেকে সুস্বাদু কোনো ফল পাওয়া গেল না তার কিন্তু অন্য গুণাবলিও থাকতে পারে। ফলে সব গাছের প্রতিই সমান দৃষ্টি রাখতে হবে। বরং না রাখাটাই একধরনের স্বার্থপরতা। কিছুদিন আগে একজন বৃক্ষপ্রেমিকের (!) সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি পেশায় একজন ডিজাইনার। জানা গেল তিনি গাছপালা খুবই পছন্দ করেন। যে কোনো ডিজাইনে তিনি গাছপালাকে বেশি প্রাধান্য দেন। এবার আরেকজন বৃক্ষপ্রেমিকের কথা বলি। গাছপালা তার ধ্যানজ্ঞান। অনেকটা সন্তানতুল্য। কোথাও বেড়াতে গেলে দেরি করেন না এই ভেবে; সময়মতো পানি না দিতে পারলে গাছগুলো কষ্ট পাবে। বাসার লোকজন তার এসব কর্মকাণ্ডে যারপরনাই অতিষ্ঠ। হঠাত্ একদিন তার বিদেশ যাবার আমন্ত্রণ এল। তখন তিনি গাছগুলো নিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়লেন। এমন আদরের গাছগুলো তিনি বিক্রি করার কথা ভাবতেও পারলেন না। তিনি ঠিক করলেন গাছগুলো এমন কোথাও দান করবেন যেখানে সেগুলো যথাযথভাবে থাকবে। কখনো দেশে ফিরে এলে ইচ্ছে করলে যেন দেখতেও পান। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তিনি কোথাও এমন একটি স্থানের সন্ধান পেলেন না। অগত্যা আমার শরণাপন্ন হলে আমি প্রথমোক্ত বৃক্ষপ্রেমিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দিই। তিনি গাছগুলোর প্রতি বেশ আগ্রহ দেখান এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণেরও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। কোনো এক অশুভ মুহূর্তে অর্থকড়িতে আকৃষ্ট হয়ে তিনি গাছগুলো বিক্রি করে দেন। তারপরই আমরা তার আসল রূপটা বুঝতে পারি। এবং এটাও বুঝতে পারি তিনি কতটা বৃক্ষপ্রেমিক।

আমরা এটুকু খবর প্রায় সকলেই জানি, দেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্যতার জন্য প্রয়োজনীয় বনভূমি আমাদের নেই। ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে আমাদের বনভূমি। সমস্ত প্রাকৃতিক নিয়মগুলো মূলসূত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীগুলো শুকিয়ে গেছে, পাহাড়গুলো ন্যাড়া হয়ে পড়েছে। এসব কারণে ক্রমেই উষ্ণতার পরিমাণ বাড়ছে। অতিরিক্ত গরমে ছড়িয়ে পড়ছে নানান রোগ-ব্যাধি।           

শীতপ্রধান অঞ্চলে একদানা শস্য ফলাতে হলেও অসাধ্য সাধন করতে হয়। অপেক্ষায় থাকতে হয় গ্রীষ্মের। তারা একেকটি বাগান রক্ষণাবেক্ষণে যে অর্থ ব্যয় করে আমরা কয়েক একর ফসলি জমি আবাদ করতেও তা ব্যয় করি না। গ্রীষ্ম ব্যতীত সমগ্র ইউরোপ ও আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চলই নিষ্প্রাণ থাকে। সে তুলনায় আমাদের শস্য ফলানোর পদ্ধতি অনেক সহজ ও কম খরচের। তাছাড়া আমাদের প্রকৃতিও সারা বছর প্রাণবন্ত থাকে। প্রাকৃতিকভাবে আমাদের এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কৃষক ‘গণি মিয়াদের’ উত্তরসূরিরা এখনো সেই প্রাচীন পদ্ধতিতে শস্য ফলায়। মাটিতে বীজ বুনে এসে তারা বাকিটুকু ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেয়। বাংলার উর্বর পলিমাটি তাদের অধিকাংশ সময়ই নিরাশ করে না। আমাদের জনসংখ্যা যদি এত বিপুল না হতো তাহলে তাতেই আমাদের দু বেলার অন্ন হয়ে যেত। আমাদের ভবিষ্যত্ ভাবনাটা খুবই ছোট আকারের। এ কারণেই প্রতি বছর রাস্তার ধারে গাছ লাগানো হয় পরের বছর উন্নয়নের নামে সেগুলো আবার কাটা হয়। আমাদের ভাবনাটা দু-চার বছরের বেশি সময় নিয়ে হয় না। অথচ পরিকল্পনা হওয়া উচিত আগামী একশ বা ততোধিক বছর নিয়ে। পরিকল্পনা করলেই যে তাত্ক্ষণিকভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে এমনও নয়। বাস্তবায়নটা ধীরে ধীরে হলে ক্ষতি কী। যেকোনো পরিকল্পনাই বেশ বড়ো করে করতে হয়। তাতে অনেক সুফল পাওয়া যায়।

আমাদের সবচেয়ে বড়ো ব্যর্থতা ভবিষ্যতের প্রশ্নে আমরা অতীত ও বর্তমানকে কাজে লাগাতে পারিনি। বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে অপার সম্ভাবনা তার প্রতিও আমরা কোনো সুবিচার করিনি। ইতিহাসের স্বর্ণযুগে অন্তত একশ বছর আগেও আমরা প্রকৃতির যে বর্ণাঢ্য রূপ প্রত্যক্ষ করি তার কোনো কিছুই আজ আর আমাদের জন্য অবশিষ্ট নেই। আমরা ভুলে গেছি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। ‘অঘ্রাণ মাস। শিশির পড়ছে। এখনো ভালো করে ধানখেতের ভিতর আল পড়েনি। সরু পথ খেতের পাশে পাশে। পথ থেকে বর্ষার জল নেমে গেছে— পথের মাটি ভিজা, কাদামাটিতে পা বসে যাবার উপক্রম। অথচ পা বসে যাচ্ছে না— কেমন নরম তাল তাল মাটির উপরে দিয়ে ঈশম হেঁটে যাচ্ছে।’ (নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে) । এই হচ্ছে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনা। এটা নিছক বর্ণনা নয়, তিনি যেন আমাদের পলিমাটির আপন গন্ধটা চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছেন আলতো করে।

নীহাররঞ্জন রায় ‘বাঙালির ইতিহাস’ গ্রন্থে প্রাচীনবাংলার কতিপয় অর্থকরী বৃক্ষের কথা উল্লেখ করেছেন। উদ্দেশ্য আর্থিক লাভালাভ হলেও তাতে কিছু কিছু পুষ্পবৃক্ষের উল্লেখও পাওয়া যায়। এসব তথ্য প্রাচীন বাংলার ভূমি বন্দোবস্ত বা দান উপলক্ষে বিভিন্ন ফলক বা লিপি থেকে প্রাপ্ত। গ্রন্থের চতুর্থ অধ্যায়ে এ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে। দিনাজপুর জেলার বাণগড়ে প্রাপ্ত প্রথম মহীপালদেবের তাম্রশাসনে কুরটপল্লিকা নামে যে গ্রাম দানের কথা বলা হয়েছে তাতে আম ও মহুয়ার কথা আছে। অনুমান করা হয় প্রথম মহীপালদেবের রাজত্বকাল একাদশ শতকের প্রথমার্ধ। অথচ কিছুকাল পূর্বে দশম শতকের একটি শাসনে দানকৃত গ্রামের উত্পন্ন দ্রব্যাদির তালিকা ভিন্নতর। কম্বোজরাজ নয়পালদেবের ইর্দা তাম্রপট্টে বৃহত্ছত্তিবনা (যে গ্রামে খুব বড়ো একটি ছাতিম গাছ ছিল?) নামে একটি গ্রাম দানের উল্লেখ আছে। গ্রামের অতি প্রয়োজনীয় অনেক কিছুর পাশাপাশি সেখানকার লবণাকর, সহকার (আম), মধুক বৃক্ষের ফল-ফুল ও অন্যান্য গাছগাছড়ার কথা বলা হয়। একই অনুচ্ছেদে লেখক আরো জানাচ্ছেন প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনেও বিস্তৃত মহুয়ার চাষ ছিল। মহুয়ার আয় ছিল দু’রকম খাদ্য ও মহুয়াজাত আসব হতে। কৌটিল্য বিশদভাবেই মহুয়া-আসবের উল্লেখ করেছেন। তখন বাঁশের ঝাড়ও অন্যতম অর্থকরী ফসল ছিল। সাধারণ মানুষ যে ঘরবাড়ি তৈরিতে বাঁশের চাঁচের বেড়া ব্যবহার করত তার প্রমাণ মেলে শবরীপাদের একটি চর্যাগীতিতে—‘চারিধারে ছাইলারে দিয়া চঞ্চালী’। চঞ্চালী বা চঞ্চারিকা যে আমাদের বাঁশের চাঁচারি এ সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। খুব ভালো বাঁশের ঝাড় ছিল বরেন্দ্রীতে। প্রসঙ্গত সন্ধ্যাকর নন্দী জানান, বরেন্দ্রীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম উপকরণ ছিল ইক্ষু বা আখের খেত। আর গৌড় শব্দের উত্পত্তি যে গুড় থেকে তা নিয়েও কোনো মতদ্বৈধ নেই।

আমাদের সমগ্র সাহিত্য, দর্শন, লোকাচার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য—সবকিছুই দীর্ঘ এক বর্ণালি ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবুও আমরা কেন প্রতিনিয়ত অন্ধকারে পথ হাতড়ে ফিরছি?