করো মানব হওয়ার সাধনা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ১৯:২২

পর্ব-০৭

 

আমরা এ বছর মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিক পালন করছি। তাই বছরের শুরুতে ‘বাংলা খেয়াল উত্সব ২০২০’ এবং আমাদের সকল কর্ম এই মানবতাবাদী নেতার নামে উত্সর্গ করেছি। আমার লেখা যে গানগুলো দিয়ে আমাদের উত্সবের সূচনা হয়েছিল তা উল্লেখ করতে চাই—

১.  করো মানব হওয়ার সাধনা  

     করো সুর-তাল-সংগীতে আরাধনা    

     রাগ: ইমন

২.  ভিন্ন ভিন্ন পথে যাব কোথায়

     এসেছ যে বিন্দু থেকে মিলিবে সেথায়

      রাগ: মিয়াকি টোড়ি

৩.  সবার উপরে মানুষ সত্য

     গাও মানুষের জয়গান।

      রাগ: পটদ্বীপ

মনে হয় মানুষ ইচ্ছা করলে ঋষি তুল্য মানব হতে পারেন আবার ভয়ংকর দানবও হতে পারেন। আসুন আমরা দানব না হয়ে মানব হওয়ার জন্য সচেষ্ট হই।

আমি জীবনে অনেক বঞ্চনা দেখেছি, লোভ-লালসা প্রত্যক্ষ করেছি, হিংসা-বিদ্বেষ, ধর্ম যুদ্ধে মানুষ হত্যার তাণ্ডবলীলা লুটতরাজ সবকিছুরই মুখোমুখি হয়েছি। আবার বহু ভালো মানুষও দেখেছি। উদার মানবতা দেখেছি, অন্যায় দেখেছি, ন্যায়বিচারও দেখেছি। মন্দের জোয়ারে ভেসে যেতে চাই না। আমার প্রতি অন্যায় হয়েছে, অন্যায় দেখে আমি অন্যায় করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি, বঞ্চিত হয়েছি কাউকে বঞ্চিত করিনি, ভুলভ্রান্তি হতেই পারে তবে সচেতন থাকার চেষ্টা করেছি—এটাই আমার সাধনা। 

ভারতবর্ষ তখন খণ্ডিত হয়ে ভারত এবং পাকিস্তান দুইটি দেশে বিভক্ত হয়নি। সেই অবিভক্ত ভারতবর্ষের বর্ধমান জেলায় প্রচুর ধান হতো। এছাড়া মহারাজার আগ্রহ-সহযোগিতায় শিক্ষা এবং সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে বর্ধমান খ্যাতি লাভ করে। অবিভক্ত ভারতবর্ষে বাংলাভাষী অঞ্চলের উচ্চাঙ্গসংগীতের পীঠস্থান বাকুড়া বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব সর্বজন শ্রদ্ধেয় সংগীতাচার্য শ্রী গোপেশ্বর বন্দোপাধ্যায় বর্ধমান মহারাজার সম্মানিত সভাগায়কের আসন অলংকৃত করছেন।

বর্ধমান শহরের পাশে একটি ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে, যার নাম ‘পীর বাহারাম’। আমি এখানে মাঝে মাঝে গিয়ে কবরগুলি দেখতাম, কবরের গায়ে লেখা পড়তাম।

পীর বাহারামে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের পক্ষে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে—

বাহারাম সাক্কা, শের আফগান এবং নবাব কুতুবুদ্দিনের সমাধি:

পীর বাহারাম নামে সমধিক পরিচিত শাহ ওয়ার্দি বয়াত্ বোখারার চাখতাই তুর্ক ছিলেন এবং সম্রাট হুমায়ুনের রাজত্বকালে ভারতে আসেন।

প্রথমে দিল্লি এবং পরে আগ্রায় তাঁহার সাধক জীবনের চিহ্ন হিসাবে তিনি পথিকদের পানীয়জল বিতরণ করিতেন এবং তাঁহার জন্য তাঁহাকে ‘সাক্কা’ (জল প্রদানকারী) বলা হইত। সিংহল যাত্রাপথে তিনি বর্ধমানে আসিয়া উপস্থিত হন এবং সেখানে হিজরা সন ৯৭০ বা ইংরেজি ১৫৬৩-৬৪ অব্দে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁহার স্মৃতিসৌধে একটি গম্বুজযুক্ত ইমারত যাহা একাধারে একটি তীর্থস্থান এবং পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন।

বর্ধমানের শাসক এবং মেহেরউন্নিসার (পরবর্তীকালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের পত্মী নুরজাহান) প্রথম স্বামী শের আফগানের এবং জাহাঙ্গীরের পালিত ভ্রাতা নবাব কুতুবুদ্দিনের মরদেহ একটি সমতল ছাদ বিশিষ্ট ইমারতে (১৬১০ খ্রি.) শায়িত আছে। 

বর্ধমান পীর বাহারামে একটি সমাধির ওপর লেখা:

সম্রাট জাহাঙ্গীরের ধাত্রী পুত্র কুতুবুদ্দিন শের আফগানের পত্মী সুন্দরী মেহের-উন্নিসাকে প্রভুর করতলগত করিয়া দিবেন এই শর্তে সম্রাট তাঁহাকে বঙ্গদেশের সুবাদারের উচ্চ পদে নিযুক্ত করিবেন, প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন, বীর প্রতিদ্বন্দ্বির সহিত যুদ্ধে কুতুবুদ্দিন নিহত হইয়া এই স্থানে সমাধিস্থ হইয়াছিলেন ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দ বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থান পীর বাহারামে অনেক কবর রয়েছে; সেইসঙ্গে এই দুটি কবর রয়েছে, যা রাজা-বাদশাদের খেয়ালখুশি, নির্মম কাহিনি বহুকাল ধরে মানুষকে জানিয়ে যাচ্ছে। সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের প্রথম স্বামী বর্ধমানের সুবেদার শের আফগান এবং তাঁর হত্যাকারী কুতুবুদ্দিনের সমাধির দিকে আমি চেয়ে থাকতাম।

কবরের ওপরে লেখাগুলো আমার চোখে বারবার ভেসে ওঠে—‘সম্রাট জাহাঙ্গীরের ধাত্রীপুত্র কুতুবুদ্দিন শের আফগান-এর পত্নী সুন্দরী মেহের-উন্নিসাকে প্রভুর করতলগত করিয়া দিবেন। এই শর্তে সম্রাট তাহাকে বঙ্গদেশে সুবেদারের উচ্চপদে নিযুক্ত করিবেন, প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন। বীর প্রতিদ্বন্দ্বীর সহিত যুদ্ধে কুতুবুদ্দিন নিহত হইয়া এই স্থানে সমাধিস্থ হইয়াছিলেন’।

১৬১০ খ্রি.

‘মেহের উন্নিসা অর্থাত্ পরে যিনি মোগল সম্রাজ্ঞী নুর্-জাহান্ নামে বিখ্যাত হইয়াছিলেন তাঁহার প্রথম স্বামী বর্ধমানের শাসনকর্তা শের আফগানের কবর’।

খ্রিষ্টাব্দ ১৬১০

লোভ-লালসার পরিণতি কী হতে পারে তার নিদর্শন এই সমাধি। আবার বাহারাম সাক্কা যিনি পথিকদের পানীয়জল বিতরণ করতেন যাঁর নামে এই স্থানের নাম হয়েছে ‘পীর বাহারাম’, তাঁর জীবন কথাও আজো বারবার মনে করি।    

এই পুরো এলাকাজুড়েই তখন মুসলমানরা বাস করতেন। এর কাছাকাছি একটি স্থানে আমার দাদাদের বন্দুকের টোটা তৈরির একটি কারখানা ছিল। আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রিসহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন। বর্ধমান শহর থেকে কাঁটোয়া যাওয়ার পথে নয়-দশ মাইল দূরে একটি রেললাইনের পাশে গ্রাম অঞ্চলে প্রচুর ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন তাঁরা। গ্রামাঞ্চলে একটি ক্যানেলের মাধ্যমে জমিতে পর্যাপ্ত জলসেচের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

যে কারণে ঐ অঞ্চলের জমিতে ঈর্ষণীয় পরিমাণ শস্য উত্পন্ন হতো। নানা ধরনের ধান হতো—ঝিংগাশাল, সীতাশাল, নাগড়া, কালিজিরার মতো সুগন্ধিযুক্ত খাসকাঁদি প্রভৃতি সুন্দর সুন্দর নাম এসব ধানের। আমার শৈশবকালে গ্রামের বাড়ির খামারে সারি সারি ধানের গোলা যাকে বলা হয় ‘মড়াই’ বাঁধা থাকত। ধান ছাড়াও আমাদের উর্বর জমিতে আলু, ছোলা, মুসুরি, মটর জাতীয় কলাই, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুঁইশাক, ডাঁটা, আখ সব ধরনের শাকসবজি এবং কৃষিজাত ফসল প্রচুর ফলত। গোয়ালে গরু-মহিষ থাকত, টাটকা দুধ, পুকুরের মাছ, জমির ফসল সবকিছুই ছিল হাতের কাছে। তাল, খেজুর, আম, লেবু এসব মৌসুমি ফল নিজেদের গাছ থেকেই পাওয়া যেত। কাঁটোয়ার গঙ্গা নদীর ঘাট থেকে জেলেরা মাছের রেণু-পোনা আহরণ করে বিক্রি করতেন। শৈশবে দেখেছি আমার বাবা যিনি নানান ধরনের মাছ পছন্দ করতেন, কাঁটোয়ায় গিয়ে সেইসব রেণু-পোনা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে পুকুরে ছাড়তেন। পোনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কাঁটোয়া যাওয়ার সময় সঙ্গে চার-পাঁচজন পোনা বাহক নিয়ে যেতেন। তাদের বড়ো বড়ো মাটির হাঁড়িতে করে কাতলা, রুই, বাটা, বাছা, রায়খয়রা, চিংড়ি, পুঁটি, মৌরল­া, কালবাউস প্রভৃতি বিভিন্ন জাতের পোনা তিনি সংগ্রহ করতেন। এসব বহু জাতের মাছ আমাদের পনেরো-ষোলটি পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হতো। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে নানান উত্সবে ব্যবহারের জন্য এক একটি পুকুর নির্দিষ্ট থাকত।

বাড়ির পাশের দু-তিনটি পুকুর প্রতিদিনের আমিষ জোগান দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ছিল। অতিথি বা পরিবারের সদস্যদের পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট জাতের মাছ খাওয়ার সাধ পূরণ হতো পলই ব্যবহারের মাধ্যমে। কয়েকজনকে পলই হাতে নামিয়ে দেওয়া হতো পুকুরে। বিশেষভাবে মাগুর, সিং ও শোল মাছ ধরায় তারা পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া বিশেষভাবে টাকি মাছ ধরার একটি পদ্ধতি ব্যবহূত হতো। একটি লম্বা দড়িতে মাঝে মাঝে ছোটো ছোটো ৪/৫টি ইটের খণ্ড বেঁধে দেওয়া হতো। পুকুরের দুই পাশে দড়ি ধরে দুইজন টেনে নিয়ে যেতেন। পুকুরের তলদেশে টাকি মাছ, শোল মাছ, যাদের অবস্থান তাদের গায়ে দড়িটি লাগার সঙ্গে সঙ্গে মাছ তার অবস্থান পরিবর্তন করে আরেকটি স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিত। মাছের এই অবস্থান পরিবর্তনে পুকুরের জলের উপরিভাগে এক ধরনের বুদবুদ বা ফেনা তৈরি হতো। সেই নির্দিষ্ট স্থানে একজন পলো নিয়ে গিয়ে চাপ দিত। আশ্চর্যজনকভাবে মাছ ধরা পড়ত। এছাড়া খেয়া জাল নামে ছোটো জাল ছিল, সেই জালটি আমাদের বাড়ির কাজের লোকেরা কয়েকজন ব্যবহার করতে পারতেন। পুকুরে প্রয়োজনমতো খেয়া জাল দিয়ে ৫-১০ কেজি মাছ সংগ্রহ করা যেতো। আচার-অনুষ্ঠান-বিয়েতে পর্যাপ্ত মাছের জন্য জেলেদের দিয়ে বড় টানা জাল বড়ো বড়ো পুকুরে নামানো হতো। এভাবে এক-দুবারে দশ-বারো মণ মাছ সংগ্রহ করা অতি সহজ ব্যাপার ছিল। মাছের যথাযথ স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য আমার বাবা গ্রামের উত্সাহী বালক এবং বয়স্কদের পুকুরে সাঁতার কাটতে বলতেন। আমরা নিয়মিত গরমের দিন পুকুরে সাঁতার কাটতাম। সেসব পুকুর যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হতো এমনকি গবাদিপশুও নামানো হতো না। কয়েক বছর পর পর পুকুর কাটানো হতো। অর্থাত্ পানির নিচে পুরনো মাটি বা পাঁক কালো হয়ে যেত, তা তুলে চাষের জমিতে কিংবা পুকুরপাড়ে গাছ লাগানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো।

আমরা বাচ্চারা দুপুরবেলায় গোসলের সময় একটা ছোটো চৌকোনা জাল ঘাটের পাশে পানিতে দুটি বাঁশ দিয়ে টাঙিয়ে দিতাম, দুই পাশে বাচ্চারা সাঁতার কাটত, অল্পক্ষণ পরেই দেখতাম অসংখ্য মৌরল­া মাছ, পুঁটি মাছ, ডাঁরকে মাছের কানকো জালে বিঁধে আটকে গেছে। জালসহ মাছ পাড়ে নিয়ে এসে মাছগুলো জাল থেকে ছাড়িয়ে নিতাম। টাটকা মাছ নিয়ে এসে তাত্ক্ষণিকভাবে ভেজে খাওয়ার সেই স্বাদ আজো মুখে লেগে আছে। গ্রামের সকলেই বিকেলবেলায় বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরত। আমরা বাচ্চারাও ছোটো ছোটো বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরতাম। বিশেষ করে শোল মাছের বাচ্চাকাচ্চা ঝাঁক বেঁধে এক জায়গায় তাদের মায়ের সঙ্গেই ঘোরাঘুরি করত, সেই অবস্থায় বঁড়শি দিয়ে কয়েক মিনিটেই বেশ কিছু শোল মাছের বাচ্চা ধরা, গামছা দিয়ে ছোটো ছোটো টাকি মাছের বাচ্চা ধরা, ঘুনি দিয়ে চিংড়ি মাছ আহরণ করা ইত্যাদি সবই আমাদের আনন্দের উত্স ছিল।

টাটকা রায়খয়রা মাছ, চাপিলা মাছ, ডাঁরকে মাছের নানা ধরনের রান্নার স্বাদ ভোলা যায় না। পুকুরের পুরানো কাদা কেটে পরিষ্কার করার প্রয়োজনে এক পুকুর থেকে তুলে অন্য পুকুরে মাছ ছেড়ে রাখা হতো। বড়ো পুকুর দু-তিন বছর পরপর পানি মেরে পরিষ্কার করা হতো। পুরাতন কাদা সার হিসেবে ব্যবহূত হতো জমিতে। ছোটো পুকুর প্রতি বছরই পরিষ্কার করা হতো। এইভাবে মাছের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকত। এজন্য এক একটা মাছ ১০-২০-৩০-৪০-৫০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হতো। একবার আমাদের পুকুর থেকে ৫০ কেজির একটি কাতলা মাছ ধরা হয়েছিল। মাছটি আমার পাশে ধরে রেখে দেখা হয়েছিল মাছটির দৈর্ঘ্য আমার চেয়ে বেশি কি না। সত্যি সত্যি মাছটি তখনকার আমার চেয়ে বেশি লম্বা এবং চওড়া ছিল। তখন মাছ ধরার পর মাছ কেটে বাইশ ভাগ করা হতো। আমাদের গ্রামে আমরা ছাড়া ২২ ঘর মানুষ বাস করতেন। আমার বাবার মামারা তিনজন এবং আরো দুই ঘর মুসলমান, এছাড়া একজন মসজিদের ইমাম—এ ছয় ঘর মুসলিম। আর বাকি ১৬ ঘর ডোম ও বাউরি। যাদের হিন্দু সম্প্রদায় ছোটো জাত মনে করত এবং তাদেরকে তাদের পাশে স্থান দিত না, তারা নাকি অচ্ছুত-অস্পৃশ্য। কিন্তু এঁদের প্রায় সকলেই আমাদের কৃষিকাজে সহযোগিতা দিতেন এবং মাসিক ও বাত্সরিক কর্মী হিসাবে কাজ করতেন। এই ২২ ঘরে মাছ দেওয়ার পরেই আমরা নিজেদের খাওয়ার মাছ রাখতাম। পালা-পার্বণেও তাঁদেরকে জামা-কাপড় দেয়া এবং খাওয়ানো হতো। কৃষিকাজসহ বাড়ি পাহারা এবং রাতের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবেও তাঁরা কাজ করতেন।