এই মুহূর্তে আমাদের মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ওপর ভরসা করা খুব বেশি জরুরি। পাশাপাশি সতর্কতা হিসেবে আমাদের আচরণগত পরিবর্তনগুলোও খুব জরুরি। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখটা ঢেকে রাখা, যেখানে-সেখানে থুথু না ফেলা আর প্রতিবার বাইরে থেকে এসে বা খাওয়ার আগে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড ধরে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে রাখার মতো ব্যক্তিগত সু-অভ্যাসগুলোয় অভ্যস্ত হতে হবে এখন থেকেই। আল্লাহ মানুষকে নানা বিপদ-আপদ দিয়ে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত নং- ১৫৫)।
বস্তুত মানুষের পাপের পরিমাণ যখন ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখনই কেবল আল্লাহ তাআলা তাদের বিভিন্ন মহামারি দিয়ে পরীক্ষা করেন। তাদের পাপের পথ থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেন। বিপদের সম্মুখীন হয়ে বান্দা কী আচরণ করে, এটা তিনি দেখতে চান। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘যেসব বিপদাপদ তোমাদের স্পর্শ করে, সেগুলো তোমাদেরই কৃতকর্মের কারণেই। আর অনেক গুনাহ তিনি (আল্লাহ) ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত নং- ৩০)। রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)। বাহ্যিক উপায় অবলম্বনে নিজেকে জীবাণুমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। আবর্জনার মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ যেন না হতে পারে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সতর্কতামূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহন করা সুন্নাহরই অংশ। তবে সর্বপ্রথম অবশ্যই মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। মনে করতে হবে এই মহামারী আমাদের গোনাহের কারণে এসেছে। তাই অবনত মস্তকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে। বেশি বেশি জিকির করতে হবে এবং গুনাহ একেবারেই বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি মহান আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করতে হবে। পবিত্র কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত নং- ৪৫)। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভয়াবহ করোনা ভাইরাস থেকে আমাদের হেফাজত করবেন।
—লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক
