অবশেষে বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে। আমরা এই ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে মনে করেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো
এই মুহূর্তে একের পর এক দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশকেও বলা হচ্ছে উচ্চ ঝুঁকির দেশ। কীভাবে করোনা শনাক্ত এবং ভাইরাস রোধে কাজ করছে বাংলাদেশ—এ নিয়ে উচ্চ আদালতও জানতে চেয়েছে। উচ্চ চিকিত্সা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ প্রস্তুত না হলেও দেশের মানুষ যদি সচেতনতা বজায় রেখে চলাফেরা করে তাহলে অবশ্যই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমরা সফল হব। তবে এই করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী শুরু করেছে ব্যবসা। তারা খুব কম টাকার মাস্ক কিনে বেশি টাকায় বিক্রি করছে। সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। এই ভাইরাস মোকাবিলার জন্য প্রায় সব হাসপাতালে খোলা হয়েছে আলাদা আলাদা ইউনিট। জনগণ যদি সচেতনতা অবলম্বন করে তাহলে অবশ্যই করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা সম্ভব।
সাবরিনা সুলতানা
ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিকস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নয়, যথাযথ সাবধানতাই যথেষ্ট। আতঙ্ক ও ভয় দ্রুত সংক্রামক! নেতিবাচক প্ররোচনার কারণে অনেকে মনে করেন করোনা ভাইরাস মানেই ‘মৃত্যু’—মোটেও তা নয়। প্রতি বছর সাধারণ ‘ফ্লু’তে ইউরোপ-আমেরিকায় লক্ষাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। অথচ করোনা ভাইরাস আক্রান্তের প্রায় ৯৮ ভাগ মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছে এবং পৃথিবীতে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার। আতঙ্ক, অবসাদগ্রস্ত করে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে করোনা ভাইরাসসহ অন্য সব অসুখ বাড়িয়ে দিয়ে আরো বেশি ক্ষতি করে।
অমিত বণিক
উত্তরা, ঢাকা
এই দুটি খবর আমাদের খুব ভাবাচ্ছে। একটি হলো- তিন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, অন্যটি হলো হঠাত্ করেই বাজারে মাস্ক সংকট। একটি প্রাকৃতিক সংকট, আরেকটি আমাদের মতো মানুষরা তৈরি করছি। আমরা চাইলেই প্রকৃতির সঙ্গে পেরে উঠতে পারি না, তবে চেষ্টার ত্রুটি কেউই রাখছে না। কিন্তু আমরা মানুষের সঙ্গে কোনোভাবেই যেন পেরে উঠতে পারছি না। ফার্মেসিতে কোথাও কোনো মাস্ক নেই। তবে আপনার যদি এদেশে বেঁচে থাকার প্রবল আগ্রহ থাকে তাহলে মাস্ক পাবেন, কিন্তু ৫ বা ১০ গুণ অতিরিক্ত টাকা আপনাকে গুণতে হবে।
আল সানি
শিক্ষার্থী, সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এখন বাংলাদেশে। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো নয়, সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন হলেই থাকা যাবে নিরাপদ। আমাদেরকে প্রাথমিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এছাড়া আমরা মুসলিম। মহান আল্লাহপাক আমাদের পরম দয়ালু। তার কাছে আমাদের সবসময় প্রার্থনা করতে হবে।
আইরিন সুলতানা সন্জু
ধুবপুল,
মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
আমাদের দেশে যে কোনো জরুরি সময়েই মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ক্রয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সবসময় এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাই আমরা মনে করি করোনা ভাইরাসে আমরা আর আতঙ্কিত হবো না। এটাকে আমরা সুষ্ঠুভাবে নিয়ম অনুসারে মেনে চলি। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহিদউল্লাহ
স্টেডিয়াম সড়ক,সদর, ফেনী
লন্ডনে ব্রিটিশ বাংলাদেশির মৃত্যু, রাজবাড়ীতে ইতালি ফেরত বাবা, ছেলে পর্যবেক্ষণে, ফিরিয়ে দেওয়া হলো ভারতীয় নাগরিককে, সৌদি ফেরত দম্পতি ও মানিকগঞ্জের ৫৯ জন কোয়ারেনটাইনে।
সুতরাং করোনা ভাইরাস এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ই হচ্ছে সতর্কতা ও নিয়মনীতি মেনে চলা।
চয়ন,
কুতুবখালি,যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
চীনের পরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ইতালিতে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং জনসমাগমে না যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে। আমাদের এই ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া একান্ত জরুরি। যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, হাত-মুখ ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, ভ্রমণসহ অন্য অনুষ্ঠানসূচি রাখা যাবে না। সর্বোপরি কথা হচ্ছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সর্তকতা ও নিয়মানুবর্তিতা পালন করা।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
পুরানা পল্টন, ঢাকা
অবশেষে বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে। এই ভাইরাস থেকে রেহাই পাওয়া গেলো না। দেশে যে তিন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের শারীরিক অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৭ মার্চের মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে সরকার। সে জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে মাস্ক। অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এটি। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী সব সময়েই এ কাজটি করে থাকে। তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে থাকে। তাই বিষয়টি মনিটরিং একান্ত জরুরি।
মো. হানিফ মিয়া
মনেশ্বর লেন,
হাজারীবাগ, ঢাকা
বাংলাদেশে এখন বইছে করোনা ভাইরাসের বাতাস। কে, কখন, কবে আক্রান্ত হবে এই ভাইরাসে তা বলা মুসকিল। তাই প্রয়োজন সর্তকতা ও নিয়মানুবর্তিতা। বিশেষজ্ঞ বিকিত্সকদের পরামর্শ হচ্ছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। কারণ এই রোগে মৃত্যুর হার খুব বেশি নয়। তাই তারা বলছেন, এটি নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। তাই আমাদের প্রত্যাশা, দেশের নাগরিকগণ অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে চলবেন।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল বা/এ
ঢাকা
করোনা ভাইরাস দেশে এসেছে। ডায়াবেটিস, কিডনি, হূদ্যন্ত্র বা ফুসফুসে পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি।
তাই একমাত্র উপায় হলো আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। নিয়মনীতিকে লক্ষ্য রেখে চলাই হচ্ছে একমাত্র পথ।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চর ভৈরবী
বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে বাংলাদেশও আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তিন জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আরো বেশকিছু লোককে ইতিমধ্যে কোয়ারান্টাইন বা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তারা এ রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং চারটি হটলাইনও খোলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক যতই ছড়াক না কেন, এটি প্রতিরোধে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের পাশাপাশি সকলকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।
মো. জিল্লুর রহমান,
সতিশ সরকার রোড, গ্লোরিয়া, ঢাকা
যে দেশের চিকিত্সক মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন না আত্মরক্ষার্থে, সে দেশকে কি করে মরণব্যাধি করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত বলা যায়? যে দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অতিলোভের কারণে মাস্কের, হ্যান্ডওয়াশের দাম বৃদ্ধি করে রাতারাতি ধনী হওয়ার চেষ্টা করে সে দেশকে কী বলা যায় করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত? বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় করোনা প্রতিরোধ করা দুঃসাধ্য ব্যাপারও বটে। তবে আশাবাদী খাদ্যাভাসের কারণে আমাদের দেশ ততটা আক্রান্ত হবে না। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার হাতে।
রনজিত ঘোষ,
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
করোনা সারাবিশ্বে বর্তমানে একটি দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর আমরা এটাও জানি যে, বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় সবসময় একটি রোল মডেল রাষ্ট্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হয়, দুর্যোগ পরবর্তীকালে সেই দেশগুলো বেশ মুষড়ে পড়ে! বিধ্বস্ত দেশগুলো অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ সময় নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হলেও খুব দ্রুততার সঙ্গে সব দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম। ইতিহাস ঘাটলেও সেসব জানা যায়। একই সঙ্গে মনে করি, বাংলাদেশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটা পথিকৃত্ রাষ্ট্র। স্বয়ং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ যেভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য অর্জন করেছে, তা পুরো বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’ পরিশেষে রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর ভরসা রেখে আমি বলতে চাই যে, এই মহামারী দুর্যোগ আমরা কাটিয়ে উঠবই- ‘ইনশাল্লাহ’।
বিলকিছ আক্তার,
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল
করোনা ভাইরাস যেভাবে চীন, ইতালির মতো আরো শক্তিশালী দেশকে দমিয়ে দিয়েছে তার সামনে বাংলাদেশ তো কিছুই না। দেশে করোনা ভাইরাসের নাম শুনতেই সকলে মাস্ক কিনতে অস্থির হয়ে উঠেছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে অসত্ ব্যবসায়ীরা, তারা ৫০ টাকার মাস্ক হাজার টাকায় বিক্রি করছে। কিন্তু অনেকে এখনো এ বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না, তারা এটাকে ঠাট্টা হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছে। যেহেতু দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে তার মানে এটি আরো ছড়াবে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রায় সব হাসপাতালে খোলা হচ্ছে করোনার জন্য আলাদা আলাদা ইউনিট। চালু করা হয়েছে হটলাইন।
সাদিয়া সুলতানা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার, ঢাকা
বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে, এ নিয়ে আমি আতঙ্কিত নই। সতর্কতা এবং সচেতনতাই পারে এ ভাইরাস থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখতে। নোভেল করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও এর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের যে কোনো ব্যক্তি এ সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। কোনো দেশই পরিপূর্ণভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বাংলাদেশ সরকার এ ভাইরাসের প্রস্তুতি হিসেবে যে সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। যদি এ ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তবে আমাদের দেশের গরীব মানুষগুলো সবার আগে আক্রান্ত হবে। সেদিক বিবেচনায় রেখে সরকার ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করা উচিত।
মনি দাস
ঢাকা
করোনা ভাইরাস দেশে এখন। সবার প্রতি তাই আহ্বান, কেউ আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাহস ও আত্মবিশ্বাসসহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। ‘ভয়কে মোরা জয় করব, ভালোবাসা দিয়ে।’
সুতরাং করোনা ভাইরাস নিয়ে আর কোনো আতঙ্ক নয়। মহান আল্লাহপাক আমাদের সহায় হবেন—ইনশাআল্লাহ। আসুন আমরা সবাই বেশি বেশি মহান আল্লাহপাককে স্মরণ করি, মাফ চাই বারবার।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
