২০২০ সালে সাহিত্যে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের বেসামরিক সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ঘোষিত তালিকায় নাম ছিল ‘কবি’ এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মেদের। কিন্ত তীব্র সমালোচনার মুখে ২১ দিন পরে গতকাল স্বাধীনতা পুরস্কার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পুরস্কার ও পদক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত নাম প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে রইজ উদ্দিন আহম্মদের নাম নেই। এখন আট বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০’ এর জন্য দেশের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু নাম ঘোষণার পর থেকেই সাবেক এই আমলার সাহিত্যে অবদান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকে তীব্র সমালোচনা করে তীর্যক মন্তব্য করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর নাম বাদ দিয়ে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী যাঁরা এই পুরস্কার পাচ্ছেন তাঁরা হলেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, মরহুম কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, শহীদ বুদ্ধিজীবী মুহম্মদ আনোয়ার পাশা ও আজিজুর রহমান; চিকিত্সাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির; সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। এছাড়া শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস্ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে। সংশোধিত তালিকাতে সাহিত্যে কারও নাম উল্লেখ নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৫ মার্চ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে সাহিত্য অঙ্গনে অপরিচিত ‘কবি’ রইজ উদ্দিনের স্বাধীনতা পদক পাওয়া নিয়ে বিস্মিত হয়েছেন প্রায় সকলেই। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন কী এমন কৃতিত্বপূর্ণ অবদান মূল্যায়ন করে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল? একজন দেশবরেণ্য সাহিত্যিক বললেন, ‘যারা রইজ উদ্দিনকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল তাদের শাস্তি চাই।’ তিনি বলেন, ‘ভুলভাল শব্দে লেখা এই ব্যক্তির কবিতার বই দেখে আমি ভিরমি খেয়েছি। তাকে কোন মূল্যায়নে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদকের জন্য মনোনয়ন করা হলো?’ যারা তাকে মনোনীত করেছিলেন তাদের দুয়েকজন সম্পর্কে নানা ধরনের কথাও শোনা যায়। বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ও প্রখ্যাত জাদুশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা জুয়েল আইচও ফেসবুকে এনিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, রইজ উদ্দিন আহম্মদের ৩০ টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। আঞ্চলিক ইতিহাস, বাংলাদেশের নদ-নদী নিয়ে তিনি লেখালেখি করেছেন।
