পালটাপালটি বহিষ্কারের ঘটনায় গণফোরামে সৃষ্ট ‘অচলাবস্থা’ কাটাতে ৪ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এক সপ্তাহ পর গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির ৭২ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটি বলা হলেও কমিটির সভাপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. রেজা কিবরিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। তবে রেজা কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এ কমিটিতে জায়গা হয়নি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদসহ অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার। বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনুমোদিত’ লিখে কামাল হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে। হঠাত্ কমিটি থেকে বাদ পড়া জ্যেষ্ঠ নেতারা সংক্ষুব্ধ। ফলে ‘অচলাবস্থা’ নিরসনের বদলে দলটিতে অভ্যন্তরীণ সংকট আরো বাড়ল বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, সুব্রত চৌধুরী ও মন্টু দুই জনই গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। কাউন্সিলের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়ার পর গত দুটি কমিটিতে সুব্রত চৌধুরী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর গত বছরের ২৯ এপ্রিল কাউন্সিলের পর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েন মন্টু। এরপর মন্টুকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাখা হলেও তিনি দলীয় রাজনীতিতে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকেন। সর্বশেষ কাউন্সিলের পর গঠিত কমিটিতে অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে নির্বাহী সভাপতি পদ দেওয়া হয়।
ক্ষুব্ধ সুব্রত চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘কারা কমিটি ভাঙে, কারা আহ্বায়ক কমিটি করে, কেন এসব করে—কিছুই জানি না। এসব গঠনতন্ত্র-পরিপন্থি। আমাদের কমিটি রয়েছে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চাই। মাঝখানে কারা কামাল হোসেনকে কুবুদ্ধি দিচ্ছে তা বের করতে হবে।’ মোস্তফা মহসিন মন্টুর প্রতিক্রিয়া—‘দল প্রতিষ্ঠার পর বিগত ২৬ বছরে এরকম সমস্যা দেখিনি। আমরা চাই না গণফোরাম ভেঙে যাক।’ আর ড. রেজা কিবরিয়ার দাবি, যারা দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেননি তাদেরই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রেজা কিবরিয়ার ভাষ্য, কামাল হোসেনের চেম্বারে বসে গণফোরামের রাজনীতির দিন শেষ। এখন তৃণমূলে গিয়ে দলকে সংগঠিত করতে হবে।
গতকাল ঘোষিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোকাব্বির খান এমপি, অ্যাডভোকেট আ ও ম শফিক উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদ, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ। প্রসঙ্গত, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে গণফোরামে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়। ঘটে পালটাপালটি বহিষ্কারের ঘটনা। তবে কোনো বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতেই দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের স্বাক্ষর ছিল না।
