বিশেষ দিবসের নাটকটি সেই রকমভাবে নির্মিত না হলে ভালো লাগবে না দর্শকদের। তাই বিশেষ আয়োজনের নাট্যনির্মাতারাও চেষ্টা করেন নাটকটি যেন দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। এদিক থেকে রেজানুর রহমান বিশেষ দিবসের নাটক নির্মাণে যেন বিশেষ পারদর্শী। আসছে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে তিনি এবার নির্মাণ করেছেন টেলিছবি ‘খেলারামের খেলা’। এই টেলিছবি নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
গ্রামের একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রচারমাধ্যমে খবরটি উঠে আসার পর প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে পরবর্তীতে দেশব্যাপী এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। সামনে নির্বাচন। কাজেই ধর্ষণের এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে এক পক্ষ অন্যপক্ষকে ঘায়েল করার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। ঢাকা থেকে দেশের প্রায় প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রের প্রতিনিধি ধর্ষিতার খোঁজ নিতে যায়। এই সুযোগে প্রচারমাধ্যমে নিজ নিজ রাজনৈতিক শক্তিকে ফোকাস করার প্রতিযোগিতা শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ। ঢাকা থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতারা আসতে থাকেন। শত শত মটর সাইকেলে চড়ে মিছিল সহকারে নেতাকে নিয়ে যাওয়া হয় ধর্ষিতার বাড়িতে। ফলে কে কত বড় মিছিল নিয়ে ধর্ষিতাকে দেখতে যাবে তার প্রতিযোগিতাও শুরু হয়। নেতা আসে নেতা যায়। ধর্ষণের বিচার হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। কিন্তু ধর্ষনের তো বিচার হয়ই না, বরং ধর্ষণকারীই প্রতিপক্ষ সব দলের কাছেই আদরণীয় হয়ে ওঠে। তাকে নিজ নিজ দলে টানতে রাজনীতির কূটকৌশল শুরু হয়। তারপর ঘটতে থাকে একের পর এক নানা অপ্রীতিকর ঘটনা—এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে টেলিছবি ‘খেলারামের খেলা’। বিশিষ্ট নাট্যকার ও পরিচালক রেজানুর রহমানের পরিচালনায় এই বিশেষ টেলিছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা রওনক হাসান ও লাক্স চ্যানেল আই তারকা সামিয়া অথৈ। তাদের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা মোহাম্মদ বারী, মাহবুবা রেজানুর, মোশারফ হোসেন, মিন্টু সরদার, সুকর্ন হাসান, মনি কানচনসহ সৈয়দপুর ও ঢাকার বিভিন্ন নাট্যসংগঠনের শতাধিক নাট্যকর্মী। টেলিছবিটির একটি বিশেষ চরিত্রে পরিচালক স্বয়ং অভিনয় করেছেন। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর, গাজীপুরের মাওনা ও ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় এই টেলিছবিটির শুটিং হয়েছে। ক্যামেরায় ছিলেন ইভানুল হক কনক। আবহ সংগীতে করেছেন বিপ্লব বড়ুয়া। টেলিছবিটি প্রসঙ্গে পরিচালক রেজানুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের একটি মেয়ের ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। কারণ সামনে নির্বাচন। কাজেই ধর্ষণের এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে এক পক্ষ অন্যপক্ষকে ঘায়েল করার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। ঢাকা থেকে দেশের প্রায় প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রের প্রতিনিধি ধর্ষিতার খোঁজ নিতে যায়। এই সুযোগে প্রচারমাধ্যমে নিজ নিজ রাজনৈতিক শক্তিকে ফোকাস করার প্রতিযোগিতা শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ। যা আমাদের সমাজে নিত্যদিন ঘটে। আশা করি টেলিছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ ‘খেলারামের খেলা’ টেলিছবিটি আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে।
