শারমীন সঞ্জিতা খানম অভিনয়শিল্পী। পাপেট করতে তার ভালো লাগে। ছোটবেলায় বাবা-মা নাচ, গান ও অভিনয় শেখানোর স্কুলে তাকে ভর্তি করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘বড় হয়ে যেটা করতে ভালো লাগে করবে, ভালো না লাগলে করবে না।’ সংলাপ গ্রুপ থিয়েটার-এর হাবিবুর রহমান হাবিবের মাধ্যমে মহিলা সমিতি মঞ্চে আরিফ হায়দার নির্দেশিত ‘বাগধী ধীরুয়াল’ নাটকে প্রথম ‘রাধা’ নামে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তারপর শরত্চন্দ্রের লেখা ‘ষোড়শী’ নাটকে ‘ষোড়শী’ চরিত্রে মোস্তফা হীরার নির্দেশনায় চরিত্রায়ণের পুরো কাজটা একটু একটু করে বুঝতে বুঝতে প্রেমে পড়ে গেলেন অভিনয়শিল্পের। এভাবেই শুরু হলো তার পথচলা। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মাহবুব আলম
অভিনয় করার ক্ষেত্রে একজন অভিনয়শিল্পীর কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন?
একজন অভিনয়শিল্পীর অভিনয় করার ব্যাপারে প্রথমেই আমার মনে আসে আমি কাজটায় আগ্রহ অনুভব করছি কি না, তারপর আসে পাণ্ডুলিপি অ্যানালাইসিস, ক্যারেকটার অ্যানালাইসিসসহ অন্যান্য বিষয়, যা যেকোনো শিল্পী মাত্রই জানেন।
নারী অভিনয়শিল্পীদের টিভি মিডিয়ায় সুযোগ বেশি। ফলে তাদের অনেকের মধ্যে টিভি মিডিয়ার প্রতি ঝোঁকও বেশি এবং মঞ্চের প্রতি অবহেলা দেখা যায়। এর কারণ কী?
আসলে ব্যাপারটাকে অবহেলা বলব না। বরং আমি তো দেখছি উল্টোটা। অনেক অভিনেত্রী এখন সগৌরবে মঞ্চ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে মিডিয়ায় একটা আকর্ষণ তো থাকেই নিজেকে আরও বেশি মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর। সঙ্গে অর্থোপার্জনের বিষয়টাও থাকে। যদিও টিভি মিডিয়ায় আমার সশরীরী উপস্থিতির অভিজ্ঞতা তেমন নেই, যা আছে তা পাপেটের মাধ্যমে।
অভিনয় করার ক্ষেত্রে কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করেন নাকি নির্দেশকের সহায়তা বেশি কাজে দেয়?
অভিনয় বিষয়ে বিভিন্ন পদ্ধতি তো আমাদের পড়া হয়। কিন্তু কাজ করতে গেলে দেখা যায়, নিজের কিছু স্বাভাবিক ভাবনা সেখানে চলে আসে। আর নির্দেশক তো থাকেনই শিল্পীর কাজটুকুর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে। তাই নির্দেশক ও শিল্পী—দুজনের মিলিত ভাবনায় কাজ বেরিয়ে আসাটা আমার পছন্দ হয়। তা ছাড়া স্বতঃস্ফূর্ততা অভিনয়ের মূলমন্ত্র মনে হয় আমার।
থিয়েটারে নারী নাট্যশিল্পীদের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি? সেগুলো কী রকম?
প্রতিবন্ধকতা ব্যাপারটা খুব আপেক্ষিক। পরিবারের সহযোগিতা থাকলে বাকি জায়গাগুলো যে খুব একটা সমস্যা, তা মনে হয় না। আর আমার সৌভাগ্য যে, আমি যেকোনো কাজে পারিবার থেকে বরাবরই অনেক বেশি সমর্থন পাই।
নাট্যচর্চায় অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা কিভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন?
অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলে আমি চাকরি না করে থিয়েটারেই সময় দিতাম পুরোপুরি। তাহলে হয়তো আরও অনেক কাজ করার মধ্যে দিয়ে শুধু শখের মধ্যে পড়ে থাকতাম না। যেটুকু কাজ করি, তা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে করতে হয়। তাতে আর কতটাই বা করা যায়।
আর আমাকে চাকরির পাশাপাশি সময় দেওয়ার ব্যাপারে খুব হিসাব করতে হয় বলে যারা আমার এই দিকটাকে খেয়াল রেখে আমাকে কাজ করার সুযোগ দেন তাদের সঙ্গে অতিথি শিল্পী হয়ে কাজ করি।
আপনাদের পাপেট নিয়ে কাজ প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
থিয়েটারে পৃথিবীর প্রাচীনতম মাধ্যম হলো পাপেট থিয়েটার। এটাকে বর্তমান থিয়েটার চর্চার সঙ্গে একীভূত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস আছে। আমাদের একটি পাপেট থিয়েটার আছে—ইনভেন্টর’স পাপেট। এখানে আমরা নিজেরাই পাপেট বানাই। কিছুদিন আগে আমরা একটা পাপেট উত্সবও করেছি, যা বাংলাদেশে প্রথম। সবার সহযোগিতা থাকলে এটাকে নিয়ে মঞ্চে বড় একটি কাজ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছি। আমি অভিনয়টা করে যেতে চাই, তা সে যে মাধ্যমেই হোক, যদিও মঞ্চে আমি বেশি স্বতঃস্ফূর্ত এবং পাপেট আমার ভালোবাসার একটা বড় অংশজুড়ে আছে।
