চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের বিদায়

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ২২:২২

নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে বহু দলকে বশে এনেছে লিভারপুল। গেলো বছরই তো বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধান ঘুচিয়ে পৌঁছেছিল ফাইনালে। তবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে এযাত্রায় আর পেরে উঠলো না কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দাপুটে শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর ফিরতি লেগে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে অ্যাটলেটিকোর কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে গেলবারের চ্যাম্পিয়নদের।

লিভারপুল গত বুধবার রাতে ৯৪ মিনিট পর্যন্ত পরের পর্বের পথেই ছিল। ৪৩ মিনিটে জর্জিনিও ওয়াইনাল্ডামের লক্ষ্যভেদ আগের লেগের এক গোলের ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আর গোলের দেখা না মেলায় দুই লেগ মিলিয়ে ১-১ সমতার কারণে বাড়তি সময়ে গড়ায় খেলাটি।

এতে বড়ো কৃতিত্ব অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের। পুরো ম্যাচে লিভারপুলের নয়টি শট ফিরিয়েছেন, নস্যাত্ করেছেন বিপক্ষের আরো ছয়টি সুযোগ। এরপর ৯৪তম মিনিটে রবার্তো ফিরমিনো যখন দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দিলেন, শেষ আটের রাস্তাটা পরিষ্কারই মনে হচ্ছিল লিভারপুলের।

তখনই অমার্জনীয় এক ভুল করে বসলেন লিভারপুল গোলরক্ষক আদ্রিয়ান। ৯৭তম মিনিটে দলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে বল দিয়ে বসলেন অ্যাটলেটিকোর পায়ে। সেখান থেকেই এলো মার্কোস ইয়োরেন্তের গোল। এর মিনিট সাতেক পর প্রতি আক্রমণে লিভারপুল জাল কাপালেন আরো একবার।

আলভারো মোরাতা ১২০তম মিনিটে অলরেডদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ আটে উঠে যায় কোচ দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো।

প্রথম গোলটি হজমের পর লিভারপুল অতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল, অপরদিকে অ্যাটলেটিকো রক্ষণ করছিল প্রায় দশ জন নিয়ে। এর আগেও খুব একটা আক্রমণে ওঠেনি মাদ্রিদ। সফরকারীদের এমন কৌশলের সমালোচনা করেছেন লিভারপুল কোচ ক্লপ, ‘কোকে, সাউল, ইয়োরেন্তেদের নিয়ে তারা প্রকৃত ফুটবল খেলতে পারত। এমন দল নিয়ে তারা এভাবে কেনো খেলে আমি বুঝি না। প্রথম ৯০ মিনিটে প্রতি আক্রমণেই ওঠেনি তারা!’

দুই গোলরক্ষকের লড়াইয়েই মূলত হেরেছে লিভারপুল। ওবলাক যেখানে পুরো ম্যাচে নয়টি সেভ দিয়েছেন, আদ্রিয়ান সেখানে নিজের ভুলে অ্যাটলেটিকোকে সুযোগ দিয়েছেন ম্যাচে ফেরার। কোচ ক্লপ অবশ্য তাকে আগলেই রাখলেন। বললেন, ‘সে অসাধারণ খেলোয়াড়। তাকে এক সেকেন্ডের জন্যেও আমরা দোষ দেব না। সেতো ইচ্ছে করে এমনটা করেনি!’

ইউরোপীয় লড়াইয়ে নিজেদের মাঠে ২৫ ম্যাচে অপরাজিত থেকেই অ্যানফিল্ডে নেমেছিল লিভারপুল। সে দুর্গ ভাঙার পর কোচ সিমিওনে মূল কৃতিত্ব দিলেন গোলরক্ষক ওবলাককে। জানালেন, রক্ষণাত্মকভাবে লিওনেল মেসির মতোই দুর্দান্ত তার গোলরক্ষক, ‘ স্যাভিচ, লোডি, ফেলিপে, হোয়াও ফেলিক্সদের মতোই গুরুত্বপূর্ণ সে। কিন্তু আমার কোনো সন্দেহ নেই যে সেই বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক। মেসি যেমন খেলায় আক্রমণাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে, ওবলাক সেটা করে রক্ষণাত্মকভাবে।’

জোড়া গোল করা ইয়োরেন্তের প্রশংসা করলেও সিমিওনে তারিফ করলেন পুরো দলেরই। বললেন, ‘ইয়োরেন্তে দলে বিপ্লব এনেছে। ক্লাবটার জন্যে আমি খুশি। এটা দারুণ এক স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক জয়, একটা অবিশ্বাস্য দলের বিপক্ষে যারা দারুণ তীব্রতা নিয়ে খেলেছিল। এটা আমাকে অনেক বেশি আনন্দ দিচ্ছে, কারণ যত সহজ মনে হচ্ছে জয়টা তত সহজ ছিল না।’