হলিউডি সুপারহিরো ফিল্ম ‘অ্যাকুয়াম্যান’ মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। ডিসি কমিকসের আলোচিত চরিত্র অ্যাকুয়াম্যানের নানা দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আবর্তিত এ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেসন মোমোয়া। এখানে অ্যাকুয়াম্যানের প্রেমিকা মিরার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আম্বার হিয়ারড। জলমানবের বান্ধবী হিসেবে তার চমত্কার প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শক মনে বেশ ঝড় তুলেছে। সুন্দরী আম্বার মিরা চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন পর্দায়। ৩২ বছর বয়সী হলিউডি সুন্দরী এই অভিনেত্রীকে সবাই বিখ্যাত অভিনেতা জনি ডেপের বউ হিসেবে চেনেন। ২০১৫ সালে তারা বিয়ে করলেও দাম্পত্য জীবন তেমন টেকসই হয়নি। দুই বছরের মাথায় তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। ২০০৪ সালে হলিউডি স্পোর্টস ড্রামা ‘ফ্রাইডে নাইট লাইটস’-এর মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল আম্বার হিয়ারডের। ‘নর্থ কান্ট্রি’, ‘আলফা ডগ’-এর মতো সিনেমাগুলোয় ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের পর ২০০৬ সালে প্রথম প্রধান নারী চরিত্রে তাকে দেখা গিয়েছিল ‘অল দ্য বয়েজ লাভ’, ‘ম্যান্ডি লেন’ সিনেমায়। ২০০৭ সালে দ্য সিডাব্লিউ টিভি শো ‘হিডেন পামস’-এ উপস্থিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন আম্বার। তবে দর্শকদের নজরে আসার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছিল ‘নেভার ব্যাক ডাউন’ ও ‘পাইনাপল এক্সপ্রেস’ সিনেমাগুলো। এ জন্য তিনি নতুন মুখের সাড়া জাগানো তন্বী অভিনেত্রী হিসেবে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
আম্বার হিয়ারডের জন্ম টেক্সাসের অস্টিনে। ছোট পর্দায় ম্যালা কাজ করেছেন আম্বার হিয়ারড। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জ্যাক অ্যান্ড ববি, ‘দ্য মাউন্টেন’, ‘ক্রিমিন্যাল মাইন্ডস’, ‘হিডেন পামস’, ‘টপ গিয়ার’, ‘দ্য প্লেবয় ক্লাব’, ‘ওভারহাউলিন’ প্রভৃতি। বড় পর্দায় ২০০৪ সাল থেকে অভিনয় করছেন আম্বার। হলিউডে তাকে একজন সুন্দরী গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী হিসেবে নির্মাতারা আলাদাভাবে পছন্দ করেন। তার অভিনীত সাড়া জাগানো সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ইনফরমারস’, ‘এক্সটারমিনেটরস’, ‘দ্য জনসেস’, ‘জোম্বিল্যান্ড’, ‘দ্য স্টেপফাদার অ্যান্ড সুন দ্য ডার্কনেস’, ‘দ্য রিভার হোয়াই’, ‘দ্য ওয়ার্ড’, ‘ড্রাইভ অ্যাংরি’, ‘দ্য রাম ডায়েরি’, ‘থ্রি জেড টু কিল’, ‘ওয়ান মোর টাইম’, ‘দ্য ড্যানিশ গার্ল’, ‘জাস্টিস লিগ’ প্রভৃতি। চলতি বছরে আম্বার হিয়ারড অভিনীত ‘হার স্মেল’, ‘লন্ডন ফিল্ডস’ সিনেমাদুটো মুক্তি পেয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা প্রযোজনায়ও যুক্ত হয়েছেন আম্বার। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছেন হলিউডি এই অভিনেত্রী। যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক নির্যাতন থেকে নারীদের মুক্ত করতে ফ্রিদা পিন্টোকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। ২০১৭ সালে ‘জাস্টিস লিগ’ সিনেমায় তাকে মিরা চরিত্রে ততটা বিস্তৃতভাবে দেখা না গেলেও এবার ‘অ্যাকুয়াম্যান’ সিনেমায় এ চরিত্রটি আগের তুলনায় অনেকটা বিস্তৃতি ঘটায়। দর্শক আম্বারকে রুপালি পর্দায় ভালোভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
