স্বামী সংসার খরচ না দেওয়ায় দুই সন্তানকে হত্যা করেন পপি

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ০০:২৯

স্বামী ঠিকমত সংসারের খরচ দিত না। মাসে দিত মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়সহ সংসার খরচ মেটাতে পারতেন না পপি। টাকার কথা বললেই তাকে বকাঝকা করত তার স্বামী। সংসার জীবনে তিনি ছিলেন চরম অশান্তিতে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় একসময় চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন পপি। আর সেই হতাশা থেকেই তিনি দুই সন্তানকে হত্যা করেন। গত ৭ মার্চ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ানে দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পপি। এ ঘটনায় তার স্বামী মোজাম্মেল হক বিপ্লব বাদী হয়ে স্ত্রীকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।

পুড়ে যাওয়া শরীরে তীব্র যন্ত্রণা। সেই সঙ্গে সন্তান হত্যার দুঃসহ স্মৃতি। আবার সুস্থ হলেই জেলখানার বন্দি জীবন। এরকমই এক মানসিক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দিনাতিপাত করছেন আখতারুন্নেছা পপি। তার দেহের ১৮ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে পপি শঙ্কামুক্ত। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনো দেড় মাস সময় লাগবে।

পপির পারিবারিক একটি সূত্র জানায়, পপির শারীরিক যন্ত্রণাকেও ছাপিয়ে গেছে তার মানসিক যন্ত্রণা। নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় প্রতিমুহূর্তে দগ্ধ হচ্ছেন তিনি। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন পপি পুলিশকে জানান, তাদের বিবাহিত জীবনের ১৩ বছরের মধ্যে ৯ বছরই তিনি সন্তানদের নিয়ে গোড়ানে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। স্বামী বিপ্লব মুন্সিগঞ্জে ভাইয়ের সঙ্গে ইলেকট্রিক সামগ্রীর ব্যবসা করেন। তার দুই মেয়ে মেহজাবীন আলভি (১২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৭) পড়াশোনা করতো ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে। কিন্তু তার স্বামী ঠিকমতো সংসারের খরচ দিত না।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, পপি এই মামলার একমাত্র আসামি। তিনি নিজে সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। পপি সুস্থ হওয়ার পর তাকে জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে নেওয়া হবে।