মন্দায় সামাজিক দায়বদ্ধতার খরচ কমাচ্ছে ব্যাংকগুলো

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ০০:৩৬

ব্যাংকগুলো কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছে। সাধারণত, প্রতি বছরই বাড়ে এ খাতের ব্যয়। তবে গত বছর এ খাতে ব্যয় কমেছে। ২০১৯ সালে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ৬৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৯০৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে সিএসআরে অনুদান কমেছে ২৫৬ কোটি বা ২৮ দশমিক শতাংশ। অন্যদিকে এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানেনি ব্যাংকগুলো। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যয় করা হলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নির্দেশনা মানা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে তাদের সিএসআর খাতের মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ১০ শতাংশ জলবায়ু ঝুঁকি বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে দেখা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলো তাদের মোট ব্যয়ের ৩৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ ব্যয় করেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে মোট ব্যয়ের ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হয়েছে ২৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যয় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রধানত শীতার্তদের কম্বল বিতরণ ও বন্যাদুর্গতদের সহায়তা প্রদান খাতে ব্যয় করা হয় যার বেশির ভাগ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ব্যাংকগুলো তাদের বিভিন্ন শাখা অফিস, এনজিও এবং সরকারি সংস্থার মাধ্যমেও শীতার্তদের কম্বল বিতরণ ও বন্যাদুর্গতদের সহায়তা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশ দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় এ খাতে ব্যয় বেশি হয়। আবার সরকারপ্রধান অনেকক্ষেত্রে দুর্যোগগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যাংকগুলোকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্থের উত্স কম হওয়ায় ব্যাংকগুলোকেই এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হয়। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বিষয়েও খেয়াল রাখে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিএসআর ব্যয়ের মধ্যে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। এ খাতে ব্যাংকগুলো ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের ৩৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শিক্ষা খাতে ব্যয় করেছে ১৭৭ কোটি টাকা। এটি এ খাতে মোট ব্যয়ের ২৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ৭৩ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। পরিবেশ খাতে ব্যাংকগুলো ৩৩ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়েছে। সংস্কৃতিতে ব্যয় করেছে ২৮ কোটি টাকা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোর মুনাফা আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় সিএসআর ব্যয়ও কমেছে। তাছাড়া সামগ্রিকভাবে সিএসআর ব্যয় কমার কারণ হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যয় কমে যাওয়া। ২০১৮ সালে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড়ো এ ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ছিল ২৮১ কোটি টাকা। সেখানে গত বছরে এ ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ১০৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে সরকারের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ২০০ কোটি টাকা দেয়।

সিএসআর খাতে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটি ২০১৯ সালে ৮৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরে যা ছিল ৮৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সিএসআর খাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ৬২৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ৮৮৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে ১৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ১৩ কোটি টাকা।

২০১৯ সালে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি সিএসআর খাতে কোনো ব্যয় করতে পারেনি। সেগুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।