মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
মির্জাপুরে বংশাই নদী থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পাহাড় থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষাসহ নদী ও পাহাড় থেকে মাটি ও বালি উত্তোলন বন্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। গতকাল শুক্রবার মির্জাপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও পাহাড় থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ করেন, বংশাই নদীর ফতেপুর, ঘোনাপাড়া, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটা, কোদালিয়া, সৈয়দপুর, হাটুভাঙ্গা ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্যেকু বসিয়ে ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে বালি নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, মীর দেওহাটা, বহুরিয়া, কামারপাড়া, ওয়ার্শি, কহেলাসহ ২০-২৫ স্থানে চুরি করে বালি উত্তোলনের মহোত্সব চলছে। এছাড়া লতিফপুর, আজগানা, বাঁশতৈল ও তরফপুর ইউনিয়নের ১৫-২০টি স্থানে পাহাড় কেটে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার, ভাদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম সিকদার এবং ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেনও উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ ও পাহাড় থেকে মাটি কাটা বন্ধের জন্য জোর দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। একটি চক্র রাতের আঁধারে চুরি করে মাটি কাটছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।
