বিবিসি
আটক অবস্থায় ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করা চেলসি ম্যানিংকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। উইকিলিকস সংক্রান্ত তদন্তে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত বছরের মে মাস থেকেই সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষক ভার্জিনিয়ার একটি আটক কেন্দ্রে বন্দি আছেন।
শুক্রবার ম্যানিংকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল, কিন্তু এর আগেই তার মুক্তির আদেশ এলো। মার্কিন ঐ বিচারক বলেছেন, ম্যানিংয়ের আর সাক্ষ্য দেওয়ার দরকার নেই। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক নথি ফাঁসসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে ২০১৩ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ম্যানিং। ৩৫ বছরের কারাদণ্ড হলেও বারাক ওবামা সাজা কমালে ২০১৭ সালে ছাড়া পান তিনি। সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষককে এরপর কয়েক দফা উইকিলিকস তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সমন জারি করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিচারের সময়ই যা বলার তা বলে দিয়েছেন বলেও বার বারই বলছেন তিনি। সাক্ষ্য না দেওয়ায় প্রায়ই তাকে আদালত অবমাননার দায়ে জেলে পাঠানো হতো। গত বছরও ৬২ দিন জেলে থাকার পর মে মাসে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ফের ভার্জিনিয়ার ঐ আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ম্যানিংয়ের ফাঁস করা তথ্যে তাদের অনেক কর্মকর্তার জীবন বিপন্ন হয়েছে। অন্য দিকে সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষকের ভাষ্য, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে বিতর্ক উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি তথ্যগুলো প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।
সামরিক আদালতের দণ্ড পাওয়ার এক দিনের মাথায় ম্যানিং নিজেকে নারী দাবি করে বাকি জীবন চেলসি ম্যানিং নামে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কারাগারে হরমোন চিকিত্সা পাওয়ার দাবিও তুলেছিলেন ম্যানিং। সেসময় পুরুষদের জন্য নির্ধারিত একটি সামরিক কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে খবর আসে। উইকিলিকস নিয়ে তদন্তে সহযোগিতা না করায় জরিমানা হিসেবে ম্যানিংকে আড়াই লাখ ডলারের বেশি জমা দিতে বলা হয়েছিল। তার আইনজীবীরা ঐ জরিমানা বাতিলের আবেদন করলেও আদালত তাতে সাড়া দেয়নি। ৩২ বছর বয়সি এ নারী আটক অবস্থায় ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার তার আইনজীবীরা আদালতে জানান। পুলিশও পরে বুধবার বিকালে ভার্জিনিয়ার আটক কেন্দ্রে ‘একটি ঘটনা ঘটেছিল’ বলে স্বীকার করে।
