জান-ই-আলম
আমার সঙ্গে কী কথা বলবেন? আমি তো জাতীয় দলেও নেই, চুক্তিতেও নেই—বক্তার নাম রুবেল হোসেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিসিবি একাডেমির জিমে এই কয়েকটি বাক্যই রুবেলের ভেতর ক্ষরণ, দহন বোঝাতে যথেষ্ট।
অথচ খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, বাংলাদেশ দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন ডান-হাতি এই পেসার। বিশেষ করে সাদা বলে তার কার্যকারিতা প্রমাণিত। বেশির ভাগ সময়ই তৃতীয় পেসার হিসেবে বল করেছেন, মাঝের ওভারগুলোতে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন এই দ্রুতগতির পেসার।
ওয়ানডে, টি-২০ দুই ফরম্যাটেই গত এক বছর ধরে একাদশে অনিয়মিত হতে শুরু করেন রুবেল। ২০১৯ বিশ্বকাপে সব ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। সাদা বলে ভবিষ্যত্ ভালো নয় চিন্তায় নির্বাচকরা তাকে সুযোগ দিয়েছেন লাল বলে। যে ফরম্যাটে ক্যারিয়ার জুড়েই বিবর্ণ রুবেল। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৩ উইকেট পেয়েছেন। ঠিক পরের ম্যাচেই আবার টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।
এখন কার্যত সাদা বল, লাল বল তথা কোনো ফরম্যাটেই জাতীয় দলে নেই রুবেল। সম্প্রতি বাদ পড়েছেন চলতি বছরে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এতসব নেতিবাচক খবরে হতোদ্যম নন অভিজ্ঞ এই পেসার। আসন্ন বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চান তিনি। মাঠে পারফরম করতে মুখিয়ে রুবেল। জাতীয় দলের ফেরাকে পাখির চোখ বানিয়েই প্রিমিয়ার লিগ মিশন শুরু করবেন তিনি। একান্ত আলাপে এমনটাই জানিয়েছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর নায়ক।
মাশরাফির পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে এক শতাধিক উইকেট পাওয়া দ্বিতীয় পেসার রুবেল। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু বিপিএলেও যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি ছিলেন। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিগের সেরা বোলারদের একজন হতে চান রুবেল।
জাতীয় দলের প্রসঙ্গ আসতেই ৩০ বছর বয়সি এই পেসার বলেন, ‘জাতীয় দল মানে আমি তো বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারী হয়েই পাকিস্তানে গিয়েছিলাম। ওখানে একটি ম্যাচ খেলেছি, টেস্ট খেলেছি। তারপর হয়তো আমি ওয়ানডে দলে নেই, টি-২০ তেও নেই। অবশ্য আমি তো পারফরম করেই গিয়েছি। এখন এটা সম্পূর্ণ নির্বাচকদের ব্যাপার। তারা আমাকে সুযোগ দেবেন কি না। এটা আমি সবসময় করি, আমি যেখানেই খেলি না কেন, আমি আমার শতভাগ দেই এবং পারফরম করার চেষ্টা করি।’
জাতীয় দলে এখন এক ঝাঁক পেসার। তাই প্রতিযোগিতাও অনেক। রুবেলের ছিটকে পড়ায় যার প্রভাবই বেশি। মূলত সাইফউদ্দিন জাতীয় দলে আসার পরই অনিয়মিত হতে শুরু করেন এই ডানহাতি পেসার।
রুবেল অবশ্য পেসারদের এই প্রতিযোগিতাকে সাধুবাদই জানাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘পেস বোলার বেশি থাকলে প্রতিযোগিতা বাড়ে। দলের পারফরম্যান্সেও কিন্তু এটার প্রভাব পড়ে। সবাই তখন চাইবে, পারফরম করে দলে থাকার জন্য। চ্যালেঞ্জ জিনিসটা খুব ভালো। আর আমি এটা খুব উপভোগ করি অবশ্য। আমি আমার স্ট্রেন্থ সম্পর্কে জানি। আমার বোলিংয়ে কী কী স্ট্রেন্থ আছে। এটার ওপরই আমি মূলত ফোকাসে থাকব।’
জাতীয় দলে ফেরাই এখন রুবেলের মূল টার্গেট। এই পেসার বলেছেন, ‘আমার টার্গেট তো অবশ্যই আছে। আমাকে প্রিমিয়ার লিগে ভালো করতে হবে। আবার জাতীয় দলে কামব্যাক করতে হবে, সেটা তো অবশ্যই। এটাই আমার মূল চিন্তা।’
প্রিমিয়ার লিগে পারফরম করার দিকেই মনোযোগী রুবেল, ‘সামনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এটা নিয়েই এখন ফোকাস করতে চাচ্ছি। টিম সিলেকশন, এমন কিছু এসব সম্পূর্ণ আমার হাতে না। এখানে আমার কাজ হচ্ছে মাঠে পারফরম করা।’
এবার গুরু সরোয়ার ইমরানকে পাচ্ছেন প্রাইম ব্যাংকের তাঁবুতে। বোলিংয়ে ছন্দ ফেরাতে প্রিয় কোচের সান্নিধ্যকে বড়ো সুযোগ হিসেবেই দেখছেন রুবেল।
