স্পোর্টস রিপোর্টার
১৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। এই সিরিজ খেলতে বেশ আগেই শ্রীলঙ্কায় এসে গেছে জো রুটের দল। প্রথম অনুশীলন ম্যাচ খেলে ফেলেছে তারা। গতকাল দ্বিতীয় অনুশীলন ম্যাচের শেষ দিন মাঠে থাকতেই রুটরা খবর পেয়েছেন, দেশে ফিরে যেতে হবে তাদের। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বাতিল হয়েছে ইংল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) এক জন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের শ্রীলঙ্কায় থাকা দল ও এসএলসির সঙ্গে রাতব্যাপী আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এ সিরিজটা আপাতত বাতিল করা হবে এবং খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্ট্যাফদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। আমাদের এখন লক্ষ্য হলো, এ সিরিজটা নতুন করে সময় ঠিক করা।’
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সঙ্গেও এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে যোগাযোগ রাখছিল ইসিবি। যুক্তরাজ্য ও শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি খুব খারাপ না হলেও খেলোয়াড়দের অস্বস্তি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি ইংল্যান্ডের চেয়ে কম। গতকাল পর্যন্ত মাত্র তিন জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এখানে। তবে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, ফ্লাইট বাতিলের মতো একটার পর একটা ঘটনায় খেলোয়াড়রা খুব অস্বস্তিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ইসিবি বলেছে, এ অবস্থায় তারা মানসিক ব্যাপারটাকেও বেশ গুরুত্ব দিয়েছে, ‘কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি পৃথিবীব্যাপীই খারাপ পরিস্থিতি ধারণ করছে। আমরা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে কথা বলে খেলোয়াড়দের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের সিরিজটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ মুহূর্তে আমরা খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা এখন তাদের যত দ্রুত সম্ভব, তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। এটা নজিরবিহীন একটা সময়। এখনকার সিদ্ধান্তগুলোও তাই ক্রিকেটের চেয়ে বড়ো।’
এ সিদ্ধান্তের ফলে এসএলসি আর্থিকভাবে একটা বড়ো ধাক্কা হজম করবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ সবসময়ই শ্রীলঙ্কার লাভজনক ব্যাপার। মনে করা হচ্ছিল, ইংল্যান্ড থেকে অন্তত ৩ হাজার সমর্থক এই সিরিজ দেখতে আসবেন।
