আক্রান্তদের এক জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২২:১৮

এক সপ্তাহ আগে দেশে যে তিন জনকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সুস্থ হয়ে ওঠায় তাদের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল শুক্রবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, তিন জনের মধ্যে দুজনের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অর্থাত্ তাদের শরীরে এখন করোনা ভাইরাস নেই। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পরীক্ষায় তাদের রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। পরপর দুবার তাদের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। আর পরপর দুবার নেগেটিভ এলে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যায়। সে অনুযায়ী একজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বাড়ি চলে গেছেন। আরেকজনের পারিবারিক কিছু বিষয় আছে। সেই বাড়ির আরো কিছু মানুষ কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আর তৃতীয় একজনের শরীরে এখনো ভাইরাসের সংক্রমণ রয়ে গেছে।

অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে আর কারও মধ্যে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআর সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট আট জনকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশ থেকে ফেরা মানুষকে বাড়িতে অবস্থান করার জন্য আহ্বান জানালেও অনেকে তা মানছেন না বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক। তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে সংক্রামক রোগ আইনে সরকার কিছুটা শক্ত পদক্ষেপও নিতে পারে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তারা অন্তত ১৪ দিন নিজের ঘরে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকুন। নইলে সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করতে পারি।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা এক       গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশফেরত কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিত ১৪ দিনের স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ঠিকভাবে পালন করছেন না। অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্ণিত আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে বা নির্দেশনা না মানলে সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকার শাস্তির বিধান রয়েছে। আর মিথ্যা বা ভুল তথ্য  দিলে সর্বোচ্চ ২ মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।

বিদেশফেরত কারো মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া গেলে আইইডিসিআরে সরাসরি না গিয়ে হটলাইনে যোগাযোগের আহ্বান জানান মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, এভাবে যাতায়াতের কারণে রোগটি অন্যের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হটলাইনে ফোন করলে আইইডিসিআরের কর্মীরা বাড়ি গিয়ে নমুনা নিয়ে আসবেন।

দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে পাঁচ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালিতে এর আগে দুজনের মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল। তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের চার জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, তার অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বর্ধন জং রানাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের সঙ্গে চিকিত্সার কোনো সম্পর্ক নেই। নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত না হয়েও এ রোগটির লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে চিকিত্সা শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশে যে তিন জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে তাদেরকে তিনি করোনা রোগী বলতে রাজি নন। তাদের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল। প্রথম দিন তাদের শরীরে একটু বেশি জ্বর ছিল। পরের দিনেই তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ৩৩৩ নম্বরে কল করে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সব তথ্যসেবা পাওয়া যাবে। করোনা ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সে কামনায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহ্বানে জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এই দোয়া করা হয়। গতকাল দেশের প্রতিটি মসজিদে জুমার খুতবায় করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে ইসলামের আলোকে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

এদিকে, করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় সাবান-পানি দিয়ে ঠিকমতো হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে আইইডিসিআর। সুগন্ধি সাবানের চেয়ে কাপড়কাচার সাবান বেশি কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।

জ্বর নিয়ে বিদেশ থেকে আসা এক যাত্রীকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আরো পাঁচ জনকে তাদের যার যার বাসায় স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছেন চিকিত্সকরা।