বরিশালে ‘ডেঞ্জার জোন’ চিহ্নিত নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে সাত মাস

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২২:২৩

সরকারি কাগজে কলমে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত নৌ-পথে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাকসহ বে-ক্রসিং ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও তার তেমন কোনো প্রস্তুতি সংস্থাটির নেই। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে আগামী ৭ মাস ঝুঁকি নিয়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নৌপথে চলাচল করতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় চলাচলরত সি-ট্রাকগুলোর মধ্যে বরিশাল অফিসের অধীনে রয়েছে চারটি। এরমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ থেকে ডেঞ্জার জোন এলাকায় চলাচলের জন্য অনুমতি নিয়েছে মাত্র একটি সি-ট্রাক:খিজির-৫।  অপর সি-ট্রাক খিজির-৭, খিজির-৮ ও শেখ কামাল এর বিষয়ে কোনো কিছু জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল অফিস থেকে জানানো হয়, সবগুলো সি-ট্রাক বিভিন্ন মেয়াদে ইজারা দেওয়া হয়েছে। অপর কোনো     সি-ট্রাক ডেঞ্জার জোন এলাকায় সার্ভিসে আসবে কি না সে বিষয়ে সংস্থার বরিশাল অফিস থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন জানিয়েছেন খিজির-৮ ও ৭ এর মেরামতের কাজ চলছে। সি-ট্রাকগুলোর ইজারাদারদের তালিকা চাওয়া হলে সংস্থার বরিশাল অফিস জানায়, এসব বিষয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ, বরিশাল এর উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানিয়েছেন, একটি সি-ট্রাকের অনুমতি নেওয়া হলেও বেসরকারি কোম্পানির বে-ক্রসিং ক্ষমতাসম্পন্ন পারিজাত, দোয়েল পাখি, বে-ক্রুজ, দি আটলান্টিক ক্রুজ সার্ভিসে থাকছে ডেঞ্জার জোন চিহ্নিত এলাকায়। এসব নৌযান দিনে সকালে একবার ও বিকেলে একবার যাত্রী পরিবহন করবে।

অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসির সমন্বয় না থাকায় অতীতের ন্যায় এবারও কৌশলে সি-ট্রাক বিকল দেখিয়ে বেসরকারি লঞ্চ ও ট্রলার পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে ২০০০ সালে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার নৌপথকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডেঞ্জার জোনে সি-ট্রাক ও  বে-ক্রসিং ছাড়া অন্য সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম চালু করা হয়। সে অনুযায়ী ১৫ মার্চ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ১৮টি নদীর ৩ হাজার কিলোমিটার এলাকায় এমএল টাইপের লঞ্চসহ ছোটো নৌ-যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। এরমধ্যে ভোলার অভ্যন্তরীণ রুট ছাড়া বরিশাল-ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট, দৌলতখাঁ-চর আলেকজান্ডার, মির্জাকালু-চর আলেকাজান্ডার, চর আলেকজান্ডার-তজুমদ্দিন রুটে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক চলাচল করার কথা রয়েছে। গতকাল বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে জানান, সি-ট্রাকগুলোর ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো সার্ভিসে যুক্ত করা হবে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যে রুটে সারা বছরই সি-ট্রাক চলার কথা সেই ভোলার শশীগঞ্জ-মনপুরা রুটে প্রায় এক বছর ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতদিন ধরে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা যাতায়াত করে আসছে। সেখানে সি-ট্রাক শেখ কামাল কবে নাগাদ সার্ভিসে যেতে পারে তা যাত্রীরা তো দূরের কথা ইজারাদার নিজেও জানেন না। বিআইডব্লিউটিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ডকইয়ার্ডে থাকা সি-ট্রাকগুলো তারা উপকূলের ডেঞ্জার জোনে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা আশ্বাস দিলেও নিরাপদ নৌ-যান কখনোই পাওয়া যায় না। সি-ট্রাকসহ সংস্থার পুরানো নৌ-যানগুলো যাত্রী পরিবহনের চেয়ে অধিকাংশ সময় মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে থাকে। সি-ট্রাক ও জাহাজ মেরামতের নামে সংস্থার টাকা লোপাট ও বেসরকারি লঞ্চ মালিকদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রায়শই পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে বেসরকারি নামসর্বস্ব লঞ্চগুলো নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত হয়েছে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি এ সব নৌ-যানে অবৈধ যাত্রী পরিবহন বন্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।