আলোকপাত

পথিক, চাতকতা পরিহার করো

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ২২:২৮

প্রকৃতির নিয়মে সময়ের পরিক্রমায় দিনের পর রাত আসে, রাতের পর দিন। এখন ফাগুন মাস, শীতের কুহেলিকা কাটিয়ে বিচিত্র ফুলের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে। কদিন বাদেই চৈত্রের দাবদাহে প্রাণ আইঢাই করবে। তবুও এই ঋতুবৈচিত্র্য আমরা উপভোগই করি এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই বেঁচে থাকি। কিন্তু ডেঙ্গুর যে ভয়াবহতা গত বছর আমাদের মৃত্যুর বিভীষিকা দেখিয়েছে, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটুক তা আমরা চাই না। তবে সেজন্য আমাদেরই রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে সময় থাকতে।

আজ আর কারো অজানা নেই যে ডেঙ্গু কোথা থেকে, কীভাবে মরণব্যাধি হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে জনাকীর্ণ রাজধানী ঢাকায় এটি পাকাপোক্ত আসন গেড়ে বসেছে। কিন্তু এইভাবে তো চলতে পারে না। জেনে বুঝে মৃত্যুকে আবাহন করা কারোরই কাম্য হতে পারে না।

কদিন আগেই ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে দুজন নগর পালের অভিষেক হয়ে গেল। তাদের হাজারো প্রতিশ্রুতির একটি ছিল পরিচ্ছন্ন নগরীর নিশ্চয়তা। আশা করি তারা নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পালনে সচেষ্ট হবেন। তাই বলে চাতক পাখির মতো তাদের দিকে তাকিয়ে থাকলে ডেঙ্গু বিমানের উড্ডয়ন থেমে থাকবে না। তারা তাদের কলকবজা সব শানিয়ে নিচ্ছে, বর্ষা মৌসুম এল বলে, আর তখনই শুরু হবে তাদের ধ্বংসযজ্ঞ।

নগর পালেরা ওষুধ ছিটাবে নাকি ড্রেন পরিষ্কার করাবে, সে অপেক্ষায় না থেকে প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দাদের নিজ ঘরদোর-আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও ভাঙা-চোরা কিংবা আস্ত কোনো পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি তাদেরই রাখতে হবে। প্রয়োজনে কেরোসিন ছিটানো যেতে পারে। এটি খুব কার্যকরি ও সহজ পন্থা। আর এ কাজগুলো এখনই শুরু করতে হবে, যাতে ডেঙ্গু-বিমানগুলো উড়তে না পারে। ফলে যাত্রী-ভাইরাসগুলো মানুষ নামক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না, আর মরণব্যাধিরও কারণ হতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে রুয়ান্ডাকে আদর্শ বলে অনুসরণ করা যেতে পারে। সেদেশে প্রতি মাসের শেষ শনিবার প্রতিটি বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলে। এমনকি সেদেশের প্রেসিডেন্টও স্বয়ং নিজ বাড়ির পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

আমরা অতটা আশা করি না, তবে এদেশের প্রতিটি নাগরিক যেন সচেতনভাবে ডেঙ্গু-প্রতিরোধে এগিয়ে আসে, নিজেদের বাঁচার তাগিদে, এটুকু আশা তো করতেই পারি। আর এ কাজে যদি আমরা সবাই সচেতন হই, নগর-পিতারাও তখন দায়সারা কাজ করে পার পাবে না। অর্থাত্ ওপরওয়ালার করুণা এমনিতেই বর্ষিত হবে। চাতকের মতো তাকিয়ে থাকতে হবে না—কখন ওষুধ বৃষ্টি হবে।

তাই বলছি, দেশের আপামর জনগণ অলসতা পরিহার কর, সচেতন হও। করোনা-আতঙ্কে বিশ্ব কাঁপছে এরপর যদি ডেঙ্গু জ্বর ধেয়ে আসে, মহা বিপর্যয় ঘটে যাবে।

 লেখক :অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক, বাউফল সরকারি কলেজ, বাউফল, পটুয়াখালী